এক ভোট বাক্স নীতি নিয়ে আসন সমঝোতায় আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিভক্ত হয়ে পড়েছে জামায়াত-চরমোনাই জোট। ১১ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই) সরে যাওয়ায় এখন ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য গড়ে উঠেছে। এ অবস্থায় জোটে এখনো ফাঁকা থাকা ৪৭টি আসন ঘিরে নতুন করে দরকষাকষি শুরু হয়েছে।
জোট সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আসন সমঝোতার নতুন হিসাব-নিকাশে এখন মনোযোগ দিচ্ছে দলগুলো। বিশেষ করে এনসিপি, মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং খেলাফত মজলিস এরই মধ্যে জামায়াতের কাছে তাদের দাবি জানিয়েছে। তাদের দাবি, মাঠপর্যায়ের অবস্থান ও সাংগঠনিক শক্তি বিবেচনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন ছাড় দিতে হবে। এছাড়া খেলাফত আন্দোলনও জোট থেকে অন্তত একটি আসন পেতে পারে বলে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি এরই মধ্যে ঘোষিত ২৫৩ আসনের কোনোটিতে প্রার্থী পরিবর্তন করা হতে পারে। এ বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে।
কথা হয় এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট হুমায়রা নুরের সঙ্গে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, আমাদের ৪২ আসনের দাবি ছিল। ১০ দল মিলে তো ৩০ আসনে সমঝোতা হয়েছে। আমাদের আরও ১২ জন পটেনশিয়াল ক্যান্ডিডেট আছেন, যাদের জিতে আসার সম্ভাবনা আছে। এটা নিয়ে আমরা দরকষাকষি করছি। কিন্তু প্রতিটা আসনেই জামায়াতের প্রার্থী দেওয়া আছে। এখন এগুলো থেকে আমাদের প্রার্থীর যোগ্যতা অনুযায়ী কতগুলো আসন নেওয়া যায়, এটা নিয়ে আলোচনা চলছে জামায়াতের সঙ্গে।
শুধু খালি থাকা ৪৭ আসনই নয়, এরই মধ্যে ঘোষিত ২৫৩ আসনের কোনো কোনো আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে। বাস্তব অবস্থান ও সমঝোতার স্বার্থে কয়েকটি আসনে প্রার্থী পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
আরও পড়ুনএকটি দল থেকে ইসিকে চাপ দেওয়া হচ্ছে: তাহের২৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা এনসিপির, কোন আসনে কে লড়বেন
লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে প্রাথমিকভাবে সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বড় ভাই এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলমকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ওই আসনে জামায়াতের অবস্থান ভালো হওয়ায় এনসিপির সঙ্গে ফের সমঝোতা করে ওই আসনে জামায়াতের প্রার্থী দেওয়ার আলোচনা চলছে।
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ১নং কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির সারাফাত হোসেন শাহিদ জাগো নিউজকে বলেন, এই আসনে এনসিপির ওই প্রার্থীকে কেউ চেনে না। আমরা এক বছর থেকে এই আসনটিতে ঘাম ঝরিয়েছি। এখন ১০ দলীয় জোট যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমরা মনে করি এটা বিবেচনা করা দরকার। সেজন্য এই আসনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বসছে। জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী নাজমুল হোসেন পাটোয়ারীও ঢাকায় আছেন। আশা করছি এই আসনে এনসিপির সঙ্গে সমঝোতা হবে, এখানে জামায়াতই নির্বাচন করবে।
জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মজলিসে শুরার এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের ভালো প্রার্থী যেখানে- সেখানেই মনোনয়ন জমা দেওয়া আছে। এটা নিয়ে কোনো সংকট হওয়ার কারণ নেই। জোটের সবাইকে সবার প্রাপ্য আসন বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন যেসব আসন আছে, সেগুলো নিয়ে লিয়াজোঁ কমিটি কাজ করছে। এখনো কারা কোন কোন আসন চাচ্ছে, সেখানে জোটের প্রার্থীদের কার কী অবস্থান সেটাও দেখা হবে।
যদিও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ৪৭টি আসন সম্পর্কে লিয়াজোঁ কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিটি আলোচনা করে প্রস্তাব পেশ করবে। এরপর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
আরএএস/কেএসআর/জেআইএম