‘বাংলা চ্যানেল’ সাঁতরে পাড়ি দিয়েছেন বগুড়ার আদমদীঘির সাঁতারু জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। তার সঙ্গে ছিলেন দুই নারীসহ ৩৫ জন সাঁতারু। সাঁতার শেষ করতে পারায় খুশি তিনি।
জাহিদুল ইসলাম উপজেলার নসরতপুর ইউপির হলুদঘর গ্রামের মৃত মোফাজ্জল হোসেন খোকার ছেলে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম সৈকত থেকে সাঁতার শুরু করে দুপুরে বাংলা চ্যানেল অতিক্রমের মাধ্যমে শেষ করেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতায় এবং ক্রীড়া পরিদপ্তরের পৃষ্ঠপোষকতায় তারুণ্যের উৎসবের অংশ হিসেবে ‘ষড়জ অ্যাডভেঞ্চার’ নামে একটি সংগঠন এ প্রতিযোগিতার ২০ তম আয়োজন করে।
জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, ‘ঢাকায় একটি বেসরকারি বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি করি। স্ত্রী ও একটি কন্যা সন্তানকে নিয়ে বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করি। প্রতিটি মানুষের সুস্থ থাকার বিকল্প নেই। এজন্য সুস্থ থাকা এবং পরিবেশ রক্ষার কথা মাথায় রেখে তিনি মূলত সুইমিং রানিং ও সাইকেলিংয়ের সঙ্গে জড়িত হন। মানুষকে রোগ থেকে মুক্ত থাকতে এবং সাঁতারে উদ্বুদ্ধ করতে চাকরির পাশাপাশি তার এ পদক্ষেপ নেওয়া।’
অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হলে প্রথমে মানসিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী হতে হবে। এ শক্তি পরবর্তী সময়ে যে কোনো অর্জনের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তিনি ২০২০ সালে প্রথম বারের মতো ঢাকায় ম্যারাথনে অংশ নেয়। এরপর সুনামগঞ্জে ১০০ কিলোমিটার আল্ট্রা রান ও ঢাকা আন্তর্জাতিক ম্যারাথনে অংশ নেয়। এ পর্যন্ত প্রায় ১০০টি ম্যারাথন সম্পন্ন করেছেন। শুধু তাই নয়, শুভলং চ্যানেল তথা কাপ্তাই লেকে ১৪ কিলোমিটার সাঁতার ও ৭ কিলোমিটার কুতুবদিয়া চ্যানেল সফলভাবে পাড়ি দেন এবং পদ্মা নদীতে ৭ কিলোমিটার সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সফল হন।’
আদমদীঘির সান্তাহার শহর প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও পৌর ক্রীড়া সংস্থার সদস্য জিললুর রহমান বলেন, ‘তিনি পেশাদার স্পোর্টসম্যান না হয়েও তার এ অর্জনে আমরা সত্যি আশ্চর্য হয়েছি, তেমনি খুশিও হয়েছি। ‘বাংলা চ্যানেল’ জয় করা জাহিদ আমাদের আদমদীঘির গর্ব। আমরা তার সফলতা কামনা করছি।’
এল.বি/আরএইচ/এমএস