বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের অধিকাংশ কমিউনাল শত্রুতার কারণে নয় বরং সাধারণ সামাজিক ও অপরাধমূলক কারণেই ঘটেছে।
গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশ পুলিশের খাতায় সর্বমোট ৬৪৫টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়। এসব ঘটনার মধ্যে ৫৭৪টি ঘটনা সাধারণ অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ৭১টি ঘটনা সাম্প্রদায়িক কারণে সংঘটিত হয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) পুলিশ সদর দপ্তরের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এসব তথ্য জানান।
পুলিশের তথ্য বলছে, ৭১টি ঘটনা কমিউনাল উপাদানযুক্ত এবং ৫৭৪টি ঘটনা অকমিউনাল বা সাধারণ অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত। কমিউনাল ঘটনা মূলত মন্দির বা প্রতিমার ভাঙচুর, চুরি, অগ্নিসংযোগ এবং সীমিত সংখ্যক হত্যা ও অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে, সংখ্যালঘুদের প্রভাবিত করা অধিকাংশ ঘটনা ছিল ধর্মনিরপেক্ষ অপরাধ, যেমন প্রতিবেশী বিবাদ, জমি সংক্রান্ত বিরোধ, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, চুরি, যৌন সহিংসতা এবং পূর্ব শত্রুতার কারণে সংঘটিত অপরাধ।
বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে বলা হয়, এসব তথ্য দেখায় যে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে সংঘটিত অধিকাংশ অপরাধ কমিউনাল শত্রুতার কারণে নয়, বরং সাধারণ সামাজিক ও অপরাধমূলক কারণেই ঘটেছে। পুলিশের সঠিক শ্রেণিবিন্যাস এবং তথ্যভিত্তিক নথি বিভ্রান্তি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রতিবেদনটিতে পুলিশি কার্যক্রমও তুলে ধরে বলা হয়, বিভিন্ন ঘটনায় শত শত মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৫০০ জনেরও বেশি আসামি গ্রেফতার হয়েছে ও অনেক ঘটনায় তদন্ত চলছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা বসানো, ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে বডি ক্যামেরার ব্যবহার এবং হটলাইন চালুর মতো পদক্ষেপ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতিকে প্রতিফলিত করে।
জাতীয় পর্যায়ে, বাংলাদেশ এখনও আইন-শৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রতি বছর আনুমানিক ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার জন সহিংস অপরাধে প্রাণ হারান। তবে, পরিস্থিতি ক্রমশ উন্নতি করছে। পুলিশিং, গোয়েন্দা সমন্বয়, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং দায়বদ্ধতার বৃদ্ধি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
পুলিশের এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান এবং অন্যান্য ধর্মের মানুষ সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করেন। প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের ও সমাজের নৈতিক ও সংবিধানগত দায়িত্ব।
প্রতিবেদনটি দেখায় যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সংঘটিত অধিকাংশ অপরাধ সামগ্রিক সামাজিক ও অপরাধমূলক সমস্যার অংশ, যা সব সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করে। পাশাপাশি, আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন, পুলিশের কার্যক্রম এবং সঠিক তথ্যভিত্তিক রিপোর্টিং সামাজিক শান্তি ও ন্যায়বিচারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি ঘটনার পরিসংখ্যান (জানুয়ারি–ডিসেম্বর ২০২৫)
মোট ঘটনা: ৬৪৫
কমিউনাল উপাদানযুক্ত ঘটনা (৭১)
মন্দির ভাঙচুর: ৩৮
মন্দিরে চুরি: ১
মন্দিরে অগ্নিসংযোগ: ৮
হত্যাকাণ্ড: ১
অন্যান্য: ২৩
মামলা দায়ের: ৫০
গ্রেফতার: ৫০
অন্যান্য পুলিশ পদক্ষেপ: ২১
কমিউনাল উপাদানবিহীন ঘটনা (৫৭৪)
প্রতিবেশী বিবাদ: ৫১
জমি সংক্রান্ত বিরোধ: ২৩
চুরি: ১০৬
পূর্ব শত্রুতা: ২৬
অস্বাভাবিক মৃত্যু: ১৭২
ধর্ষণ: ৫৮
অন্যান্য: ১৩৮
মামলা দায়ের: ৩৯০ (অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা: ১৫৪)
গ্রেফতার: ৪৯৮
অন্যান্য পুলিশ পদক্ষেপ: ৩০
(সূত্র: পুলিশ সদর দফতর)
এমইউ/এসএনআর