রাজনীতি

কায়কোবাদের প্রার্থিতা বহাল, ভোটে বাধা নেই

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের প্রার্থিতা বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে তার আর কোনো বাধা নেই।

কায়কোবাদের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে করা আপিলের শুনানি নিয়ে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন তার প্রার্থিতা বহাল রেখে রায় দেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে কায়কোবাদের মনোনয়ন বৈধ হয়েছিল। কিন্তু তুরস্কের দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ এনে তার মনোনয়নপত্র বাতিল চেয়ে ইসিতে আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী ইউসুফ সোহেল।

গতকাল রোববার ছিল ইসির আপিল শুনানির শেষ দিন। সব আপিল নিষ্পত্তি হলেও কায়কোবাদের বিরুদ্ধে করা আপিলের সিদ্ধান্ত অপেক্ষমান রেখেছিল কমিশন।

সোমবার আপিল শুনানি শেষে কায়কোবাদের মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে করা আপিল না মঞ্জুর করেন ইসি। এতে তার প্রার্থিতা বহাল থাকে।

২০০৪ সালের আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় কায়কোবাদ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন। ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যাল-১ এ মামলার রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের ফাঁসি এবং বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১১ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে রায় ঘোষণা করেছিলেন।

তবে বিচারিক আদালতের এ রায় বাতিল করে গত বছরের ১ ডিসেম্বর বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মামলায় কায়কোবাদসহ সব আসামিকে খালাস দেন।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন কায়কোবাদ। কুমিল্লা-৩ আসনের পাঁচবারের সাবেক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি হয়। পরে তিনি রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা উল্লেখ করে আবেদন করে রেড নোটিশ প্রত্যাহার করান। এরপর তিনি কিছুদিন সৌদি আরব ও কিছুদিন আরব আমিরাতে অবস্থান করেন বলে জানা যায়। দীর্ঘ ১৩ বছর পর ২০২৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন কায়কোবাদ।

এমওএস/এমকেআর