আন্তর্জাতিক

ডাল আমদানিতে ভারতের ‘অন্যায্য’ শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষোভ, ট্রাম্পকে চিঠি

ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চলমান আলোচনায় নতুন করে জটিলতা তৈরি করতে পারে ডাল আমদানি শুল্ক ইস্যু। ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা ডালের ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি দিয়েছেন অন্তত দুইজন রিপাবলিকান সিনেটর।

মার্কিন সিনেটররা বলছেন, ভারতের এই শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ডাল উৎপাদকরা ‘গুরুতর প্রতিযোগিতামূলক অসুবিধা’র মুখে পড়েছেন। তারা একে ভারতের আরোপিত ‘অন্যায্য’ শুল্ক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর নয়াদিল্লির পাল্টা এই সিদ্ধান্ত ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা আরও জটিল করে তুলতে পারে।

আরও পড়ুন>>ট্রাম্পের শুল্ক সত্ত্বেও বেড়েছে চীনের রপ্তানি, বাণিজ্য উদ্বৃত্তে রেকর্ডগ্রিনল্যান্ড দখলে সমর্থন না দিলে শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পেরট্রাম্পের শুল্ক হুমকিতে বিশ্ববাজারে সোনা-রুপার দাম ইতিহাসে সর্বোচ্চ

চিঠিতে কী বলা হয়েছে

চিঠিতে মন্টানার সিনেটর স্টিভ ডেইনস ও নর্থ ডাকোটার সিনেটর কেভিন ক্রেমার উল্লেখ করেন, তাদের রাজ্য দুটি যুক্তরাষ্ট্রে ডালজাত ফসল, বিশেষ করে মটরশুঁটি উৎপাদনে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডালভোক্তা দেশ। বৈশ্বিক ডাল ভোগের প্রায় ২৭ শতাংশ হয়ে থাকে দক্ষিণ এশীয় দেশটিতে।

ভারতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ডালের মধ্যে রয়েছে মসুর ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি ও শুকনো মটরশুঁটি। কিন্তু এসব পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির ক্ষেত্রে ভারত উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছে বলে অভিযোগ মার্কিন আইনপ্রণেতাদের।

চিঠিতে বলা হয়, গত ৩০ অক্টোবর ভারত হলুদ মটরশুঁটির ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়, যা কার্যকর হয় ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘ভারতের এই অন্যায্য শুল্কের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ডাল উৎপাদকরা ভারতে তাদের উচ্চমানের পণ্য রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রতিযোগিতামূলক অসুবিধার মুখে পড়ছেন।’

ট্রাম্পকে চাপ বাড়ানোর আহ্বান

সিনেটররা ট্রাম্পকে পরামর্শ দিয়েছেন, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ডাল শুল্ক ইস্যুতে আলোচনা করলে তা দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে ‘পারস্পরিকভাবে লাভজনক’ হবে। এতে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকরা উপকৃত হবেন, তেমনি ভারতীয় ভোক্তারাও লাভবান হবেন বলে তারা উল্লেখ করেন।

চিঠিতে নর্থ ডাকোটা ও মন্টানার কৃষকদের জন্য অনুকূল অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরিতে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসাও করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়, ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনা এগোলে যেকোনো চুক্তিতে ডাল খাতের জন্য অনুকূল শর্ত অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা উচিত।

আগেও উঠেছিল একই অভিযোগ

সিনেটররা স্মরণ করিয়ে দেন, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালের বাণিজ্য আলোচনার আগে তারাও একই বিষয় তুলে ধরেছিলেন। সে সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে তাদের চিঠি প্রধানমন্ত্রী মোদীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদকদের আলোচনার টেবিলে আসতে সহায়তা করেছিল বলে তারা দাবি করেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র যখন বাণিজ্য ঘাটতি পুনর্সাম্য করতে চাইছে, তখন মার্কিন কৃষকরা সেই শূন্যতা পূরণে প্রস্তুত। বাণিজ্যের সুযোগ উন্মুক্ত হলে তারা বিশ্বকে খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতা রাখে।’

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের জুনে ভারতকে জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্সেস (জিএসপি) সুবিধা থেকে বাদ দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে ভারত। সে সময়ও ডাল খাতে ভারতের শুল্ককে ‘অন্যায্য’ আখ্যা দিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন এই মার্কিন সিনেটররা।

সূত্র: এনডিটিভিকেএএ/