আন্তর্জাতিক

ইরানকে ‘সামলাতে’ রওয়ানা দিয়েছে মার্কিন রণতরী

ইরানের সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ স্তিমিত হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা এখনো তুঙ্গে। ইরানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা দিয়েছে বিমানবাহী অত্যাধুনিক মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’। একই সঙ্গে তেহরানের বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে সে বিষয়ে সব ধরণের ‘অপশন’ বিবেচনায় রাখার কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত থেকে এই রণতরী আব্রাহাম লিংকন মোতায়েনের খবর প্রকাশ পায়। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের ভেতরে চলমান ব্যাপক বিক্ষোভ এবং সেগুলোর প্রতি সরকারের দমনমূলক আচরণ মার্কিন রণতরি পাঠানোর সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সৌদি আরবের দৈনিক আশারক আল-আউসাত সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত এক কলামে বিশ্লেষক আবদুর রহমান আল-রাশেদ লিখেছেন, ইরান চাইলে এখনো পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে পারে। পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করা এবং সামরিক তৎপরতা থামালে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার দোহাই দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ এড়াতে পারবে।

আল-রাশেদ আরও মন্তব্য করেন, বর্তমান পরিস্থিতি ইরানের জন্য নজিরবিহীন।

উল্লেখ্য, তীব্র মুদ্রাস্ফীতির কারণে বর্তমানে ইরানে যে বিক্ষোভ চলছে তা শুরু হয়েছে গত ২৮ ডিসেম্বর। সম্প্রতি ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের রেকর্ড অবমূল্যায়ন ও নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া দেশটির গ্রান্ড বাজার এলাকার ব্যবসায়ীরা প্রথমে বিক্ষোভ শুরু করে, যা পরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। বর্তমানে ডলার–রিয়াল বিনিময় হার ১ ডলারে ১ লাখ ৪৫ হাজার রিয়ালে পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হবার খবর প্রকাশিত হলেও ইরানি কর্তৃপক্ষ এখনো নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি। এরই মধ্যে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, ইরানের অভ্যন্তরে আন্দোলনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সরাসরি সংযোগ রয়েছে। বিক্ষোভকে উসকে দিতে এসব দেশের গোয়েন্দা সংস্থা হাজারো মানুষকে হত্যা করেছে।

সূত্র: আরব নিউজ

কে এম