টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে আসার জন্য পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার হওয়ায় বিভিন্ন দেশের প্রায় ৪২জন ক্রিকেটারকে ভিসা দিচ্ছিল না ভারত। এ নিয়ে মোটামুটি বিপাকেই পড়েছিল আইসিসি। তবে, তারা জানিয়েছিল- এসব ক্রিকেটার যেন ভিসা পেতে পারে সে জন্য সহায়তা করা হবে।
সে হিসেবে সবার আগে ইংল্যান্ডের দুই ক্রিকেটারকে ভিসা দিলো ভারত সরকার। ইংল্যান্ড দলের এই দুই ক্রিকেটার হলেন রেহান আহমেদ ও আদিল রশিদ। আইসিসি আশাবাদী, টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত বা পাকিস্তানের নাগরিক অন্যসব খেলোয়াড়, সাপোর্ট স্টাফ ও কর্মকর্তাদের ভিসাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হবে।
গত সপ্তাহের শেষ দিকে জানা যায়, পাকিস্তানের সঙ্গে পারিবারিক যোগসূত্র থাকা রেহান আহমেদ ও আদিল রশিদ ভিসা ক্লিয়ারেন্সের অপেক্ষায় ছিলেন, যদিও ইংল্যান্ড দলের বাকি সদস্যরা আগেই ভিসা পেয়ে গিয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত একাধিক খেলোয়াড় ভারতীয় ভিসা পেতে বিলম্বের মুখে পড়েছেন। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র দলের ক্রিকেটার আলি খানের একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ভারতীয় ভিসা না পাওয়ার দাবি নতুন করে বিষয়টি আলোচনায় আনে।
ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তপ্ত এবং বর্তমানে তা আরও নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ফলে পাকিস্তানি নাগরিক কিংবা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূতদের জন্য ভারতীয় ভিসা পাওয়া সাম্প্রতিক সময়ে কঠিন হয়ে উঠেছে। এমনকি ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নিতে ভারত সফরের আগে পাকিস্তান জাতীয় দলকেও স্বল্প সময়ের ভিসা জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছিল।
আইসিসি সূত্র অনুযায়ী, মোট ৪২টি ভিসা আবেদন জমা পড়েছে কানাডা, নেদারল্যান্ডস, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইংল্যান্ড, ইতালি, বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র দলের পক্ষ থেকে। এর মধ্যে নেদারল্যান্ডস ও কানাডার খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের ভিসা ইতোমধ্যে ইস্যু হয়েছে।
আগামী সপ্তাহের শুরুতে ইউএই, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, বাংলাদেশ ও কানাডা দলের সদস্যদের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ দলের ক্ষেত্রে কোচিং স্টাফে থাকা সাবেক পাকিস্তানি স্পিনার মুশতাক আহমেদের ভিসাও এই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত।
ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে আইসিসি আরও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন ও কনস্যুলেটগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। আইসিসি আশা করছে, আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই সব ভিসা ইস্যু সম্পন্ন হবে। উল্লেখ্য, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্ব শুরু হবে ৩১ জানুয়ারি এবং টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ মাঠে গড়াবে ৭ ফেব্রুয়ারি।
আইএইচএস/