গর্ভাবস্থায় মায়ের খাবার শুধু মায়ের শরীর নয়, ভবিষ্যৎ শিশুর মস্তিষ্ক গঠনের সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, এই সময়ের পুষ্টি শিশুর শেখার ক্ষমতা, স্মৃতি এবং মানসিক বিকাশের ভিত্তি তৈরি করে।
আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনে প্রকাশিত কোলিন ও শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশ বিষয়ক একটি গবেষণা ও কর্নেল ইউনিভার্সিটির মাতৃপুষ্টি ও শিশুর স্মৃতিশক্তি বিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে - পুষ্টির এই তালিকায় একটি সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ খাবার হলো ডিম।
গবেষণা বলছে, গর্ভবতী মা নিয়মিত ডিম খেলে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ডিমে থাকা কোলিন নামের একটি পুষ্টি উপাদান শিশুর মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিপোক্যাম্পাস গঠনে সাহায্য করে। এই অংশটি স্মৃতি ধরে রাখা ও নতুন কিছু শেখার ক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গর্ভাবস্থায় কোলিনের ঘাটতি হলে শিশুর স্নায়ু সংযোগ ঠিকভাবে গড়ে উঠতে বাধা পেতে পারে। অথচ একটি ডিমেই দৈনিক প্রয়োজনীয় কোলিনের বড় অংশ পাওয়া যায়। এর ফলে শিশুর ভবিষ্যৎ স্মৃতিশক্তি ও শেখার গতি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
ডিম শুধু কোলিন নয়, উচ্চমানের প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বিরও ভালো উৎস। এই উপাদানগুলো শিশুর মস্তিষ্কে স্নায়ুর আবরণ তৈরি, নিউরনের যোগাযোগ এবং সামগ্রিক ব্রেন গ্রোথে সহায়তা করে। গর্ভাবস্থা ও জীবনের প্রথম বছরে শিশুর মস্তিষ্ক খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এই সময় সঠিক পুষ্টি পেলে মস্তিষ্কের এই বিকাশ প্রক্রিয়া আরও মজবুত হয়।
তবে শুধু ডিম খেলেই সব হবেদ, বিষয়টি এমন নয়। ডিমের সঙ্গে শাকসবজি, ফল, ডাল ও পূর্ণ শস্য যোগ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যতালিকা রাখা জরুরি। পাশাপাশি ডিম ভালোভাবে রান্না করে খাওয়া উচিত, যাতে সংক্রমণের ঝুঁকি না থাকে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, গর্ভাবস্থায় নিয়মিত ও নিরাপদভাবে ডিম খাওয়া শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থ বিকাশে একটি সহজ কিন্তু কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন, কর্নেল ইউনিভার্সিটি, হার্ভার্ড টি.এইচ. চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ
এএমপি/জেআইএম