আইন-আদালত

মামলার প্রথম সাক্ষী বিশ্বজিৎ জবানবন্দিতে চাইলেন বাবা হত্যার বিচার

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার অভিযোগে বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন করা হয়েছে। এরপর মামলার প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি শুরু করেন শহীদ গংগাচরণ রাজবংশীর ছেলে বিশ্বজিৎ রাজবংশী। জবানবন্দিতে বাবা হত্যার বিচার চান তিনি।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। অন্য দুই সদস্য হলেন–বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এদিন রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। অন্যদিকে আসামি পক্ষের শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট মনসুরুল হক চৌধুরী।

মামলার চার আসামির মধ্যে দুজন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। তারা হলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তারা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) কর্মরত ছিলেন। অন্য দুই আসামি পলাতক। তারা হলেন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান।

জবানবন্দিতে বিশ্বজিৎ রাজবংশী বলেন, তিনি পেশায় একজন এসি মেকানিক। তার বাবা গংগাচরণ রাজবংশী ছিলেন জাদুশিল্পী শাহিন শাহর ব্যক্তিগত গাড়িচালক। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আনুমানিক রাত ১০টার দিকে তার বড় ভাই মিঠু রাজবংশীর ফোনে একটি কল আসে। সেই ব্যক্তি ফোনকলে বলেন, তার বাবাকে (গংগাচরণ রাজবংশী) বিজিবি গুলি করেছে। রামপুরা ব্রিজের ওয়াসা গেটের সামনে তার বাবা পড়ে আছেন। পরে তার মা ও এলাকার দু-তিনজনসহ তিনি (বিশ্বজিৎ) ঘটনাস্থলে যান। তারা গিয়ে দেখেন, তার বাবার বুকের ডান পাশে একটি গুলি লেগে পিঠ দিয়ে বের হয়ে গেছে। পরদিন তার বাবার মরদেহ পোস্তগোলা শ্মশানে সৎকার করেন তারা। মামলার আসামি রেদোয়ানুল, রাফাত, রাশেদুল ও মশিউর এই হত্যায় জড়িত বলে জবানবন্দিতে বলেন বিশ্বজিৎ রাজবংশী। তিনি বাবা হত্যার বিচার কামনা করেন ট্রাইব্যুনালে।

এফএইচ/এমএমকে/এমএস