সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪ হাজার ৩৮৫ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে গত ৯ জানুয়ারি। এতে অংশ নেওয়া পৌনে ১১ লাখেরও বেশি চাকরিপ্রার্থী এখন ফলাফলের অপেক্ষায়। তবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সব ধরনের চাকরির পরীক্ষা ও নিয়োগপ্রক্রিয়া বন্ধ রাখার দাবি উঠেছে। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে একদল চাকরিপ্রার্থী স্মারকলিপিও দিয়েছেন।
এরপর থেকে গুঞ্জন উঠেছে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল আপাতত প্রকাশ করা হবে না। পাশাপাশি নির্বাচনের আগে কোনো মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ করে ফেসবুকে বিভিন্ন চাকরির নিয়োগ ও প্রস্তুতি সম্পর্কিত গ্রুপে এ নিয়ে অসংখ্য পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। আবার জালিয়াতি, অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত চালাচ্ছে—মর্মে বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র বলছে, নির্বাচন কমিশন বা সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়া স্থগিতের কোনো লিখিত বা মৌখিক নির্দেশনা তারা পাননি। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁস, অনিয়ম ও জালিয়াতির কারণে পরীক্ষা বাতিল হতে পারে বলে যে গুজব ছড়ানো হয়েছে, তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ফল প্রস্তুতের কাজ চলছে। শিগগির প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের পরিচালক এ কে মোহম্মদ সামছুল আহসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে কারা দাবি জানিয়েছেন, কী দাবি জানিয়েছেন; সে বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে কোনো ধরনের নির্দেশনা আসেনি। সরকারের পক্ষ থেকেও আমাদের এ নিয়ে কিছু বলা হয়নি। আমরা আমাদের কাজ করছি, ফল প্রস্তুতের কাজ করছি। যথাসম্ভব দ্রুত ফল প্রকাশ করা হবে।’
৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্যপদের বিপরীতে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি। এ পরীক্ষার কয়েকদিন আগ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন ফেসবুকে শেয়ারও করেন।
অন্যদিকে এ পরীক্ষা ঘিরে সক্রিয় হয়ে ওঠে ‘ডিভাইস পার্টি’। তারা পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে মোটা অঙ্কের অর্থ চুক্তির মাধ্যমে ডিভাইসের সহায়তা দিয়েছেন। ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষা দেওয়া ২০৭ জন চাকরিপ্রার্থীকে হাতেনাতে ধরা হয়েছে। তাদের মধ্যে গাইবান্ধায় ৫৩ জন, নওগাঁয় ১৮, দিনাজপুরে ১৮, কুড়িগ্রামে ১৬, রংপুরে দুজন রয়েছেন।
প্রশ্নফাঁস, অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগে এ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামেন সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রত্যাশীরা। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বলছে, প্রশ্নফাঁসের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আর যারা জালিয়াতির চেষ্টা করেছে, তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ফলে এ পরীক্ষা বাতিলের সুযোগ নেই।
এএএইচ/এমআইএইচএস