আন্তর্জাতিক

সিরিয়ায় করেছি, ইরানে করবো, কিন্তু গ্রিনল্যান্ড কেন?

গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ট্রাম্প নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ম্যাক্রোঁর পাঠানো একটি বার্তার স্ক্রিনশট প্রকাশ করেছেন।

ওই বার্তায় ম্যাক্রোঁ জানান, সিরিয়া ও ইরান ইস্যুতে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। তবে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ তিনি বুঝতে পারছেন না।

বার্তায় ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বন্ধু, সিরিয়া বিষয়ে আমরা পুরোপুরি একমত। ইরান নিয়েও আমরা বড় কিছু করতে পারি। কিন্তু গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আপনি কী করছেন, তা আমি বুঝতে পারছি না।’

আরও পড়ুন>>নির্বাচন পেছানোর জন্যই কি ট্রাম্পের এই ‘যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা’?ট্রাম্পের হুমকি: গ্রিনল্যান্ড রক্ষায় আরও সেনা পাঠালো ডেনমার্কগ্রিনল্যান্ড ইস্যু/ ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকিতে ইইউ নেতাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া

বার্তায় ম্যাক্রোঁ প্রস্তাব দেন, দাভোস সম্মেলনের পর বৃহস্পতিবার বিকেলে প্যারিসে একটি জি–৭ বৈঠকের আয়োজন করা যেতে পারে। বৈঠকের ফাঁকে ইউক্রেন, ডেনমার্ক, সিরিয়া ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে, ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার আগে প্যারিসে তার সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেওয়ারও আমন্ত্রণ জানান ফরাসি প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্প ওই বার্তা প্রকাশ করলেও কেন সেটি শেয়ার করেছেন, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি। পোস্টে তিনি শুধু লিখেছেন, ‘ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর পাঠানো নোট।’

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউজ ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন এলিসি প্যালেসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ম্যাক্রোঁর ঘনিষ্ঠ মহল বার্তাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করে ট্রাম্প একাধিকবার দ্বীপটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা বলেছেন। এই ইস্যুতে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় ট্রাম্প ও ম্যাক্রোঁর এই বার্তা বিনিময় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমকেএএ/