আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর সারাদেশে মোট প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯৭২ জনে। দেশের ২৯৮টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী রয়েছে ঢাকা–১২ আসনে, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৫ জন। আর সবচেয়ে কম প্রার্থী পিরোজপুর–১ আসনে।
এছাড়া দেশের ৩১টি আসনে ১০ জন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। ফলে এসব আসনে ভোটের মাঠে তুমুল লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলছে, প্রার্থী যত বেশি, প্রতিদ্বন্দ্বিতাও তত বেশি হবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো তথ্য একীভূত করে বুধবার (২১ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী তালিকা প্রকাশ করে ইসি।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, পিরোজপুর–১ আসনে এবার মাত্র দুজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। একজন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাসুদ সাঈদী, অন্যজন বিএনপির আলমগীর হোসেন। কম প্রার্থী হলেও এ আসনে তুমুল লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকা–১২ আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রার্থী রয়েছে নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনে, যেখানে লড়ছেন ১৩ জন। নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা–১২ (তেজগাঁও এলাকা) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে।
বিশেষ করে এই আসনে ‘তিন সাইফুলের’ উপস্থিতি ভোটের মাঠে বাড়তি কৌতূহল তৈরি করেছে। তারা হলেন— বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. সাইফুল আলম এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট–সমর্থিত বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিন সাইফুলসহ মোট ১৫ জন প্রার্থী থাকায় এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে।
ইসির চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ জন প্রার্থী রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনে। খুলনা–১, ঢাকা–৯, ঢাকা–১৪ ও গাজীপুর–২ আসনে প্রতিটিতে ১২ জন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এছাড়া ১১ জন করে প্রার্থী রয়েছেন ঢাকা–৫, ঢাকা–৭, ঢাকা–১১, ঢাকা–১৬, ঢাকা–১৭, নারায়ণগঞ্জ–৩, গোপালগঞ্জ–২, ফেনী–২, নোয়াখালী–৫ এবং খাগড়াছড়ি আসনে।
অন্যদিকে, ১০ জন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ঠাকুরগাঁও–৩, রংপুর–৫, গাইবান্ধা–৩, খুলনা–৩, টাঙ্গাইল–৪, ঢাকা–১৮, নরসিংদী–৫, নারায়ণগঞ্জ–৫, মাদারীপুর–১, মাদারীপুর–২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৬, কুমিল্লা–৫, নোয়াখালী–৬, চট্টগ্রাম–৯ ও চট্টগ্রাম–১১ আসনে।
দেশের বেশ কয়েকটি আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের যেসব আসনে লড়াই করতে হচ্ছে, সেখানে প্রার্থীর সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে বেশি।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা–১৭ আসনে ১০ জন এবং বগুড়া–৬ আসনে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা–১৫ আসনে সাতজনের সঙ্গে লড়বেন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা–১১ আসনে আটজন প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। স্বতন্ত্রপ্রার্থী তাসনিম জারা ঢাকা–৯ আসনে ১১ জনের সঙ্গে এবং বিএনপির আব্দুল আউয়াল মিন্টু ফেনী–৩ আসনে সাতজনের সঙ্গে লড়বেন।
এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লা–৪ আসনে চারজনের সঙ্গে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা–৮ আসনে বিএনপির মির্জা আব্বাসসহ ১০ জনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এছাড়া ঢাকা–১৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মো. মামুনুল হক, ঢাকা–১ আসনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা–২ আসনে আমানউল্লাহ আমান এবং বরিশাল–৫ আসনে ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ কক্সবাজার–২ আসন থেকে নির্বাচন করছেন।
চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী লড়বেন ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, কক্সবাজার–১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদকে মোকাবিলা করতে হবে মাত্র তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বীকে।
কুমিল্লা–১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরকে জয় পেতে সাতজন বৈধ প্রার্থীকে হারাতে হবে।
কিছু আসনে লড়াই কম হবে বলে দেখা যাচ্ছে। তিনটি আসনে বিএনপির প্রার্থী নেই, কারণ ঋণখেলাপির কারণে তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। ফলে এ আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তুলনামূলকভাবে কম হবে।
কুমিল্লা–৪ আসনে এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর জয়লাভের পথ কিছুটা সহজ হয়ে গেছে। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী হাইকোর্টে প্রার্থিতা পুনর্বহালের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তার আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম–২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর এবং কুমিল্লা–১০ আসনে আবদুল গফুর ভুইয়ার মনোনয়নপত্রও বাতিল করেছে ইসি। ফলে এ তিনটি আসনে জামায়াত জোট প্রথম থেকেই এগিয়ে রয়েছে।
এমওএস/এমএএইচ/