কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশের কাছ থেকে ১৪৯ কোটি ১৭ লাখ ২৫ হাজার ২৫০ টাকায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সার সংরক্ষণ ও বিতরণের সুবিধার্থে দেশের দুটি স্থানে বাফার গুদাম নির্মাণে ৯৫ কোটি ৮০ লাখ ৮৩ হাজার ২৮০ টাকা ব্যয় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে সার কেনা ও গুদাম নির্মাণে অর্থ ব্যয় অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশের কাছ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনার প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়। উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি পর্যালোচনা করে প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পরিকল্পনা মোতাবেক কাফকো, বাংলাদেশ থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কেনার সংশোধিত চুক্তি সই হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১১তম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনার জন্য প্রাইস অফার পাঠানোর অনুরোধ করা হলে কাফকো প্রাইস অফার পাঠায়।
কাফকোর সঙ্গে চুক্তি মোতাবেক সারের মূল্য নির্ধারণ করে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার প্রতি মেট্রিক টন ৪০৫.২৫ মার্কিন ডলার হিসেবে মোট ১ কোটি ২১ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ ডলারে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৪৯ কোটি ১৭ লাখ ২৫ হাজার ২৫০ টাকা।
বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে ‘সার সংরক্ষণ ও বিতরণের সুবিধার্থে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় ফরিদপুর জেলায় ১০ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার একটি বাফার গুদাম নির্মাণের প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়। উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি এ প্রস্তাবটিও অনুমোদন দিয়েছে।
জানা গেছে, ‘সার সংরক্ষণ ও বিতরণের সুবিধার্থে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় ফরিদপুর জেলায় একটি বাফার গুদাম নির্মাণের পূর্ত কাজ কেনার উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ৭টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। তার মধ্যে ৫টি প্রস্তাব আর্থিক ও কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়।
দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসির সুপারিশে রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এরোনেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (এআইএল) এবং সালাম কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের (এসসিএল) কাছ থেকে ৪৮ কোটি ৪৫ লাখ ২৮ হাজার ৩৯২ টাকায় প্রকল্পের আওতায় একটি বাফার গুদাম নির্মাণের পূর্ত কাজের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্যাকেজের আওতায় ফরিদপুরে একটি ১০ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ইউরিয়া সারের জন্য স্টিল স্ট্রাকচার বাফার গোডাউন নির্মাণ, সাইট ডেভেলপমেন্ট, অফিস কাম গেস্ট হাউস, আনসার ব্যারাক, সাব-স্টেশন ও জেনারেটর রুম, বহিঃস্থ টয়লেট ব্লক, ওয়াচ টাওয়ার, আরসিসি স্টর্ম ড্রেন, পাম্প হাউস ও আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার), বাউন্ডারি ওয়াল, প্রধান গেট ও গার্ড রুম রয়েছে।
বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আর এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ‘সার সংরক্ষণ ও বিতরণের সুবিধার্থে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় গাইবান্ধা জেলায় ১০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার একটি বাফার গুদাম নির্মাণের পূর্ত কাজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় গাইবান্ধা জেলায় ১টি বাফার গুদাম নির্মাণের পূর্ত কাজ ক্রয়ের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ৫টি প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। তার মধ্যে ৩টি প্রস্তাব আর্থিক ও কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়।
দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসির সুপারিশে রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান এসএস রহমান ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কাছ থেকে ৪৭ কোটি ৩৫ লাখ ৫৪ হাজার ৮৮৮ টাকায় প্রকল্পের আওতায় ১টি বাফার গুদাম নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্যাকেজের আওতায় গাইবান্ধায় একটি ১০ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ইউরিয়া সারের জন্য স্টিল স্ট্রাকচার বাফার গোডাউন নির্মাণ, সাইট উন্নয়ন কাজ, অফিস কাম গেস্ট হাউস, আনসার ব্যারাক, সাব-স্টেশন ও জেনারেটর কক্ষ, বহিঃস্থ টয়লেট ব্লক, ওয়াচ টাওয়ার, আরসিসি স্টর্ম ড্রেন, পাম্প হাউস ও আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার, সীমানা প্রাচীর, প্রধান ফটক ও গার্ড রুম, পুকুর খনন, সাব-স্টেশন যন্ত্রপাতি (১০০ কেভিএ), জেনারেটর (৬০ কেভিএ) ও সোলার সিস্টেম ইত্যাদি নির্মাণ করা হবে।
এমএএস/এমকেআর