কুমিল্লা-৪ আসনে ঋণখেলাপির অভিযোগে প্রার্থিতা হারানো বিএনপি নেতা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী সাংবাদিকের ওপর ক্ষেপেছেন।
প্রার্থিতার বিষয়ে বুধবার (২১ জানুয়ারি) হাইকোর্টে শুনানির আগে এ ঘটনা ঘটে। আদালতে প্রবেশের সময় মঞ্জুরুলের ছবি ও ভিডিও ধারণ করায় তিনি এক গণমাধ্যমকর্মীকে ধমক এবং লাঠি দিয়ে তার মোবাইল ভেঙে দেন। এর চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি গণমাধ্যমকর্মী’। এসময় বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল ক্ষেপে গিয়ে বলেন, ‘চুপ তোর গণমাধ্যম।’
এদিকে, মনোনয়ন ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মঞ্জুরুলের করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে তার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ আপাতত বন্ধ হয়ে গেল।
হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের বেঞ্চ রিট শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস, এ বি এম সিদ্দিকুর রহমান, হামিদুল মিসবাহ ও মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ মামুন।
হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার সালাহ উদ্দিন দোলন, সৈয়দ মামুন মাহবুব, মোহাম্মদ হোসেন লিপু, এহসান এ সিদ্দিক, জহিরুল ইসলাম মুসা ও অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন।
হাসনাতের আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু ও নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ফয়জুল্লাহ ফয়হুল সাংবাদিকদের জানান, আদালতের কাছে ঋণখেলাপির তথ্য গোপন করে প্রার্থী মঞ্জুরুল প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। আদালত তার প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন। এখন তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। তবে তিনি হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।
এছাড়া শুনানিতে মঞ্জুরুল যেসব প্রতিষ্ঠান হতে ঋণখেলাপি হয়েছেন তারা তার প্রার্থিতার বিরোধিতা করেন।
সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা মঞ্জুরুলের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে ঋণখেলাপির অভিযোগে এর বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করেছিলেন এই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। এতে ১৭ জানুয়ারি মঞ্জুরুলের মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসি। এ সিদ্ধান্ত স্থগিত চাওয়া হয়েছিল রিট আবেদনে।
এফএইচ/একিউএফ