ইসরায়েলের আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রযুক্তি সম্পূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে উত্তর আমেরিকার জন্য প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রকল্প নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ দাবি করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বিবিকে (বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু) বলেছি, ডোমের কৃতিত্ব নেওয়া বন্ধ করুন। এটি আমাদের প্রযুক্তি, আমাদেরই জিনিস।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েলের জন্য আমরা যা করেছি, তা অসাধারণ। তবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং বিশ্বের জন্য যা পরিকল্পনা করেছি, তার তুলনায় সেটি কিছুই নয়।’
আরও পড়ুন>>রকেট-বৃষ্টি ঠেকাতে ব্যর্থ আয়রন ডোম‘আয়রন ডোমে’ আগের মতো ভরসা পাচ্ছেন না ইসরায়েলিরাইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা যেভাবে তছনছ করলো ইরান
ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি প্রতিরক্ষা ডোম তৈরি করবে, যার তুলনা নেই। ‘আমরা ইসরায়েলের জন্য এটা করেছি,’ উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ‘ওরা ভালো কাজ করেছে এবং এমনভাবে ইরানের পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলা করেছে, যা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।’
TRUMP: ISRAEL'S DOME WAS JUST THE START"What we did for Israel was amazing, but that's nothing compared to what we have planned for the United States, Canada, and the rest of the world.We are going to build a dome like no other.We did it.We did it for Israel.And by… https://t.co/he0timSPiA pic.twitter.com/MlFZlsb7uU
— Mario Nawfal (@MarioNawfal) January 21, 2026 ‘গোল্ডেন ডোম’ কী?২০২৫ সালের মে মাসে গোল্ডেন ডোম প্রকল্পের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। সে সময় তিনি বলেন, আয়রন ডোম তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সহায়তা করেছে, তবে ওয়াশিংটনের প্রযুক্তি ইসরায়েলের চেয়েও উন্নত।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের আগস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন (১৭ হাজার ৫০০ কোটি) ডলার। ট্রাম্প প্রশাসনের একটি উপস্থাপনা নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানায় রয়টার্স।
নভেম্বরে সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘স্পেস ফোর্স’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিযোগী প্রোটোটাইপ তৈরির জন্য নর্থরপ গ্রুম্যান, ট্রু অ্যানোমালি, লকহিড মার্টিন এবং অ্যান্ডুরিলসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি করেছে।
দাভোসে বক্তব্যের পর প্রশ্নোত্তর পর্বে ট্রাম্প বলেন, হামাস অস্ত্র ত্যাগে রাজি হবে কি না, তা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই স্পষ্ট হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ওরা এতে সম্মত হয়েছে। তাদের এটা করতেই হবে। আমরা জানবো—দুই-তিন দিনের মধ্যে, অবশ্যই তিন সপ্তাহের মধ্যেই।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘যদি তারা এটা না করে, তাহলে খুব দ্রুত তাদের গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।’
সূত্র: জেরুজালেম পোস্টকেএএ/