ময়মনসিংহের বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। একইসঙ্গে কমেছে মুরগির দাম। এতে কিছুটা স্বস্তিতে কিনতে পারছেন ক্রেতারা।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে শহরতলির ঐতিহ্যবাহী শম্ভুগঞ্জ বাজারে গিয়ে বাজার দরের এই তথ্য জানা গেছে।
ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, বাজারে শীতকালীন সবজির প্রচুর সরবরাহ বেড়েছে। এতে দামও কমেছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সবজি কিনছেন ক্রেতারা। কেনাবেচায় জমজমাট বাজার। বর্তমানে দেশি শিম ৫০ টাকা থেকে কমে ৪০, টমেটো ৫০ টাকা থেকে কমে ৪০, শসা ৭০ টাকা থেকে কমে ৬০, গোল বেগুন ৫০ টাকা থেকে কমে ৪০ ও কাঁচামরিচ ১২০ টাকা থেকে কমে ১১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া করলা ৮০, দেশি গাজর ৪০, চিকন বেগুন ৪০, কাঁচা পেঁপে ৩০, মটরশুঁটি ১৪০ ও মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচকলা ৩০ টাকা হালি, লাউ ৬০ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। তবে বেড়েছে লেবুর দাম। গত সপ্তাহ লেবু ২০ টাকা হালিতে বিক্রি হলেও এখন দ্বিগুণ বেড়ে ৪০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে।
একই বাজারে তেলাপিয়া ২০০-২৮০, মৃগেল ২৮০-৩৫০, পাঙাশ ১৭০-২০০, পাবদা ৪০০-৫৩০, ট্যাংরা ৫১০-৭৮০, রুই ৩২০-৪২০, কালবাউশ ৩০০-৩৭০, কাতলা ৩৪০-৪৪০ টাকা, শিং ৩৪০-৬৪০, টাকি ৪১০-৫৪০, সিলভার কার্প ২১০-২৮০, শোল ৫৯০-৬৪০ ও কৈ ২৫০-৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
কমেছে ব্রয়লার মুরগি ও সোনালি কক মুরগির দাম। ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা থেকে কমে ১৬০, সোনালি কক মুরগি ২৯০ টাকা থেকে কমে ২৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অপরিবর্তিত অবস্থায় সাদা কক মুরগি ২৭০, খাসির মাংস এক হাজার ১৫০ ও গরুর মাংস ৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে।
বাজারে সবজি কেনার সময় কথা হয় আব্দুল হাই নামের একজন ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, বাজারে প্রত্যেক বিক্রেতা প্রচুর সবজি নিয়ে বসে আছেন। দেখেই বোঝা যাচ্ছে সবজির সরবরাহ বেড়েছে। সবজির দামও কমেছে। এতে স্বস্তিতে কিনতে পারছেন ক্রেতারা। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বাজার মনিটরিং করলে দাম আরও কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্রয়লার মুরগি কিনতে আসেন মোর্শেদ মিয়া। তিনি বলেন, দুই কেজি ব্রয়লার মুরগি কিনেছি। এতে গত সপ্তাহের তুলনায় দুই কেজিতে ২০ টাকা কমে বিক্রি করেছেন বিক্রেতা। নিয়মিত ন্যায্য দামে সবকিছু বিক্রি হলে ক্রেতারা স্বস্তিতে কিনতে পারবেন।
সবজি বিক্রেতা আজহারুল ইসলাম বলেন, সদর উপজেলার চর সিরতা, চর ঈশ্বরদিয়া ও পরানগঞ্জসহ কয়েকটি ইউনিয়নের চরাঞ্চলে প্রচুর সবজি উৎপাদন হয়। এসব ইউনিয়নে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ সবজি শম্ভুগঞ্জ বাজারে আসছে। এতে দামও কমতে শুরু করেছে। বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়তে থাকলে দামও নিম্নমুখী হতে থাকবে।
মুরগি বিক্রেতা নোমান মিয়া বলেন, পাইকারিভাবে ব্রয়লার মুরগি ও সোনালি কক মুরগির দাম কমেছে। ফলে আমরাও কিছুটা কম দামে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারছি। পাইকারিভাবে দাম বাড়লে ক্রেতাদের কাছে আমরাও বাড়তি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হবো।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুস ছালাম বলেন, বাজারে আমাদের নজরদারি রয়েছে। যৌক্তিক কারণ ছাড়া কোনো বিক্রেতা দাম বাড়িয়ে বিক্রি করলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কামরুজ্জামান মিন্টু/এমএন/এমএস