ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা পর্যন্ত চলবে প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারণা। আজ সকাল থেকে ঢাকা-৫ আসনের যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা এলাকা প্রার্থীদের প্রচারণায় সরগরম থাকতে দেখা গেছে।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা থানা নিয়ে ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. নবী উল্লা (ধানের শীষ প্রতীক), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ কামাল হোসেন (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক), ইসলামী আন্দোলনের মো. ইবরাহীম (হাতপাখা প্রতীক)। এছাড়া উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, জাতীয় পার্টির মীর আব্দুস সবুর, এলডিপির মো. হুমায়ূন কবির।
এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৬ হাজার ৯৯৫ জন। মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ১২টি। এগুলো হলো ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৮, ৪৯, ৫০, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৬৮, ৬৯ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড।
ঢাকা-৫ আসনের যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা এলাকায় বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের প্রচারণা করতে দেখা গেছে/ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির প্রার্থী নবী উল্লা (নবী) সকালে যাত্রাবাড়ীর নবী টাওয়ারে আলেম-ওলামাদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা করেছেন। এরপর তিনি ৫০ নম্বর ওয়ার্ডে জনসংযোগে নেমেছেন।
নবী উল্লার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ফেরদৌস হোসেন রনি জাগো নিউজকে বলেন, আলেম-ওলামাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা দিয়ে আমাদের প্রচারণা শুরু হয়েছে। এরপর আমরা ৫০ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারণায় আছি। সারাদিন এ ওয়ার্ডে মিছিল, লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে।
পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, উত্তর-পশ্চিম যাত্রাবাড়ী, উত্তর যাত্রাবাড়ী, দক্ষিণ-পূর্ব যাত্রাবাড়ী, ওয়াপদা কলোনি ও দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫০ নম্বর ওয়ার্ড।
প্রচারণা শুরুর প্রথম দিন ফজরের নামাজেই পর থেকেই প্রচারণায় নামেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। বাদ ফজর থেকে ঢাকা-৫ আসনের ৬৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন হাজী মো. ইবরাহীম। তিনি ডেমরার সারুলিয়া, টেংরাসহ আশপাশের এলাকায় ঘুরে ঘুরে ভোট চেয়েছেন, লিফলেট বিতরণ করেছেন।
জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকা-৫ আসনে ১০ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কামাল হোসেনের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক সড়কে সকাল সাড়ে ৯টায় নির্বাচনি প্রচারণার উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও এ আসনের প্রার্থী কামাল হোসেন।
ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম শাহরিয়ার, নেজামে ইসলামী পার্টির নায়েবে আমির আল্লামা মোখলেসুর রহমান কাসেমী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সমন্বয়ক মুফতি আব্দুল্লাহ বিন কাসেমী, জুলাই যোদ্ধা নূর আলম আজাদ, রবিউল করিম, হোসাইন আহমদ, জামাল উদ্দিন, আবু বক্কর তুহিন, আইনাল হক, মিজানুর রহমানসহ ১০ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এরপর তারা মিছিল নিয়ে সায়েদাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় যান। ভোট চেয়ে ভোটারদের কাছে লিফলেট বিতরণ করেন।
কামাল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা ঢাকা-৫ আসনে জুলাই যোদ্ধা ও ১০ দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছি। দিনব্যাপী প্রচারণা চলবে। আশা করি আমরা বিজয়ী হবো।’
এছাড়া ঢাকা-৫ আসনের মাতুয়াইল, শেখদী, গোবিন্দপুর, উত্তর রায়েরবাগ, কোনাপাড়া, ডগাইর, স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় ছোট-ছোট মিছিল হচ্ছে বলে জানা গেছে।
মাতুয়াইল খানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা শাহরিয়ার হোসেন বলেন, প্রচারণা কেবল শুরু। আমরা চাই সবাই নির্বিঘ্নে প্রচারণা করুক। তবে যাকে আমরা যোগ্য মনে করব তাকেই ভোট দেব।
এ আসনের আরেক ভোটার উত্তর রায়েরবাগ এলাকার মুদি দোকানদার বাবুল মিয়া বলেন, এ আসনে অনেক সমস্যা। বৃষ্টি হলে পানি জমে। ঠিক মতো গ্যাস পাই না। আশপাশে ভালো হাসপাতাল নেই। এবার ভোট হয়তো দেব, কিন্তু সমস্যা ঠিক হবে বলে তো মনে হয় না। তারপরও আমাদের আশা, যিনি এমপি নির্বাচিত হবেন তিনি জনগণের হয়ে কাজ করবেন।
এবার ভোটে কাগজের পোস্টার নিষিদ্ধ। তাই বিভিন্ন স্থানে বড় প্লাস্টিকের ব্যানার ও কাঠের ফ্রেমে প্লাস্টিকের পোস্টার দেখা গেছে।
প্রচারণা শুরু উপলক্ষে আসনের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা গেছে। মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে সেনাবাহিনীর সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা গেছে।
আরএমএম/এমএমকে