টিস্যু পেপার-বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো এবং গালি দেওয়ায় নির্বাচন কমিশনে (ইসি) স্বশরীরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এসব অভিযোগ একসঙ্গে করে আগারগাঁও নির্বাচন কমিশনে সশরীরে এসে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে অভিযোগ দেন তিনি। এসময় কয়েকজন নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে একই অভিযোগ দেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি একজন সচেতন ভোটার এবং স্বতন্ত্র এমপি পদপ্রার্থী হিসেবে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যে, নির্বাচন উপলক্ষে আমার নির্বাচনি এলাকায় কিছু গুরুতর অনিয়ম হচ্ছে। ১১ জানুয়ারি আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুরে খালেদা জিয়ার মিলাদ মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, রুমিন ফারহানা ও মমতাজের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এছাড়া অকথ্য ভাষায় মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, যা আমার সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আমি রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা বৃদ্ধাঙ্গলি দেখানো হয়।’
লিখিত অভিযোগে রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘আমার প্রতিপক্ষ এবং সুনির্দিষ্ট করেই বলা যায় যে, একটি বড় জোট সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি এলাকায় প্রতিনিয়ত আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর পূর্বেই বৃহৎ আকার বিলাসবহুল ও দৃষ্টিনন্দন প্যান্ডেল, মঞ্চ তৈরি করে সভা-সমাবেশ করছেন, আমাকে ভয়াবহ নোংরা ভাষায়, ন্যাক্কারজনকভাবে আক্রমণ করে প্রকাশ্যে বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছেন। যার অনেকগুলোই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে ও হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত নির্বাচনি কর্মকর্তারা উল্লিখিত বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম বাঁধা দেওয়া কিংবা শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না। অন্যদিকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে আমাকে/আমার সমর্থকদের এরই মধ্যে দু’দফায় ১০ হাজার ও ৪০ হাজার জরিমানা করা হয়।’
এই বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমাকে টিস্যু পেপার বলা হয়েছে। এছাড়া মমতাজ বেগম ও নর্তকী বলা হয়েছে। আমি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিলাম। আমার লোকজনকেও মারা হয়েছে। অথচ তাদের বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশন নেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু আমি ছোট একটা টেবিল নিয়ে কর্মসূচি করলেও আমাকে জরিমানা করা হচ্ছে। এখানে ভোট যদি চুরি না হয় তবে আমি জনগণের ভোটে জয়ী হবো।’
এমওএস/এমআইএইচএস