শিশু মানুষ হয় শুধু বাবা-মায়ের ভালোবাসায়, এই ধারণা অনেকটাই অসম্পূর্ণ। আধুনিক মনোবিজ্ঞান ও নিউরোসায়েন্স বলছে, শিশুর মানসিক নিরাপত্তা ও সামাজিক দক্ষতা গড়ে ওঠে একাধিক যত্নশীল সম্পর্কের মাধ্যমে।
সেই জায়গায় খালা, ফুফু বা মাসির মতো কাছের নারী অভিভাবকের ভূমিকা, বিশেষ করে কন্যাশিশুর ক্ষেত্রে, খুব গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুর জীবনে যদি নিয়মিতভাবে উপস্থিত, সাড়া দেওয়া এবং আবেগ বোঝে—এমন একাধিক প্রাপ্তবয়স্ক থাকে, তাহলে তার স্নায়ুতন্ত্র আরও ভালোভাবে বিকশিত হয়। এতে আবেগ নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক আচরণ ও মানসিক সহনশীলতার সঙ্গে যুক্ত নিউরাল সংযোগগুলো মজবুত হয়।
খালার সঙ্গে সম্পর্ক অনেক সময় মায়ের সম্পর্কের পরিপূরক হিসেবেও কাজ করে। মা যেখানে দৈনন্দিন দায়িত্ব ও শাসনের সঙ্গে যুক্ত, সেখানে খালা অনেক সময় হয়ে ওঠেন বিশ্বাসের মানুষ, যার কাছে শিশু নির্ভয়ে কথা বলতে পারে। এতে শিশুরা সহানুভূতি, বিশ্বাস ও সমস্যা মোকাবেলার দক্ষতা শিখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কন্যাশিশুরা একাধিক নারীর মধ্যে আত্মবিশ্বাস, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও আবেগ প্রকাশের স্বাস্থ্যকর উদাহরণ দেখে উপকৃত হয়। খালারা অনেক সময় মেয়েদের জন্য অনানুষ্ঠানিক মেন্টর হয়ে ওঠেন - যেখানে পরিচয়, স্বাধীনতা ও আত্মপরিচয়ের বিষয়ে কথা বলা সহজ হয়।
নিউরোসায়েন্স বলছে, শিশুর মস্তিষ্ক খালার যত্নকে নিরাপত্তার সংকেত হিসেবে সংরক্ষণ করে। ফলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সম্পর্ক শিশুর মনে গভীর নিরাপত্তাবোধ তৈরি করে, যা ভবিষ্যতের সম্পর্ক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
পরিবার চাইলে এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে - খালাদের সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটানো, সিদ্ধান্তে মতামত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং অর্থবহ কথোপকথনের পরিবেশ তৈরি করে। এতে মা ও খালা - উভয়ের সম্মিলিত ভূমিকা শিশুকে আত্মবিশ্বাসী, সহনশীল ও সামাজিকভাবে দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।
সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি সেন্টার অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড, জার্নাল অব চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট, ন্যাশনাল সায়েন্টিফিক কাউন্সিল অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড
এএমপি/জেআইএম