দেশজুড়ে

১২ ঘণ্টা পর রাঙ্গামাটির সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল স্বাভাবিক

পরিবহন মালিকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে রাঙ্গামাটির সঙ্গে চট্টগ্রামসহ সারা দেশের বন্ধ থাকা বাস চলাচল দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা পর পুনরায় শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মোটর মালিক সমিতি।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সৌদিয়া পরিবহন ও রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতির মধ্যে বিরোধের জেরে সব ধরনের যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে পর্যটন শহর রাঙামাটিতে আসা পর্যটক, সাধারণ যাত্রী ও শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দিনভর সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি শেষে বিকালে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেও মিলেনি সিদ্ধান্ত। পরিবহন ধর্মঘট বহাল রাখার সিদ্ধান্তে অনড় থেকেই বৈঠক থেকে বেরিয়ে আসেন পরিবহন মালিক নেতারা। যদিও হলরুমের বাহিরে এসে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মটর মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ সৈয়দ হোসেন।

চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মোটর মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ সৈয়দ হোসেন বলেন, যেহেতু নির্বাচনের সময় ঘনিয়েছে তাই প্রশাসনের অনুরোধের কারণে আমরা সাময়িক ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছি। আমাদের গাড়িগুলো চলাচল করবে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাঙ্গামাটির সঙ্গে সারাদেশের যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। সকাল থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি-বান্দরবানগামী কোনো যাত্রীবাহী বাস ছেড়ে যায়নি। অনেকেই সিএনজি অটোরিকশায় যাতায়াত করে চট্টগ্রাম শহরসহ আশপাশের গন্তব্যে গিয়েছেন। কেউ কেউ বাতিল করেছেন গন্তব্যও।

চট্টগ্রাম থেকে রাঙ্গামাটিগামী যাত্রী অজয় মিত্র বলেন, এ সড়কে আমরা যারা নিয়মিত যাতায়াত করি এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। এ অঞ্চলের মানুষরা এই পরিবহন মালিকদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই জিম্মি। আজকে সকাল থেকেই হুট করে বাস বন্ধ করে দেয়। এখন চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পথে কোনো গাড়ি পাইনি। শেষ পর্যন্ত তিনজন মিলে একটা সিএনজিচালিত অটোরিকশা রিজার্ভ করে রাঙ্গামাটি আসতে হচ্ছে। এতে করে আমাদের একদিকে হয়রানি ও সময় ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়তি অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

পরিবহন মালিক ও চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মোটর মালিক সমিতি তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে সৌদিয়া পরিবহন তাদের দুটি বাস রাঙামাটি-ঢাকা রুটে যাত্রী পরিবহন শুরু করলেও মালিক সমিতিকে তারা টোকেন ফি জমা দিচ্ছিল না। ফলে বুধবার সমিতির লোকজন সৌদিয়া কাউন্টারে গিয়ে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হুমকি দিয়ে আসে। এমনকি কোনো প্রকার পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সকাল থেকে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় মালিক সমিতি।

তবে সৌদিয়া বাস কাউন্টারের রাঙ্গামাটি ব্যবস্থাপক আরমান হোসেন বলেন, আমরা সব ধরনের অনুমতি নিয়ে বাস চলাচল শুরু করেছি। কিন্তু গতকাল (বুধবার) হঠাৎ আমাদের কাউন্টারে তালা ঝুলিয়ে দেন রাঙ্গামাটি মোটর মালিক সমিতির লোকজন। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় আমাদের কাউন্টারের তালা খুলে দেওয়া হয়।

তবে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে জানতে রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিনকে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

আরমান খান/কেএইচকে/জেআইএম