ক্যাম্পাস

এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় কাজ হচ্ছে ‘কালচারাল স্পেস’ তৈরি করা

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেছেন, এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বড় কাজ হচ্ছে এমন একটি ‘কালচারাল স্পেস’ তৈরি করা, যার ফলে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের আর কোনো সুযোগ থাকবে না। আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের দুঃশাসনের প্রধান হাতিয়ার ছিল কালচার।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্বরে ‘শহীদ ওসমান হাদি স্মৃতি বইমেলা’র সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

ফারুকী বলেন, আমরা যদি সত্যিকার অর্থে ফ্যাসিবাদমুক্ত পলিটিক্যাল কালচারের বাংলাদেশ চাই, তাহলে কালচারাল স্পেস সবার জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একসময় হাই কালচার ও লো কালচার ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়েছিল। কে হাই কালচার-যে তথাকথিত বাঙালি সংস্কৃতি, মানে আওয়ামী সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে, সেই হাই কালচার। হাই কালচার ও লো কালচার; এই কনসেপ্টের কাজ হলো আপনাকে বলে দেওয়া, কার মৃত্যুতে আপনি কাঁদবেন আর কার মৃত্যুতে কাঁদবেন না। এই ন্যারেটিভের কারণেই ব্যারিস্টার আরমান গুম হলে মধ্যবিত্তের মন কাঁদে না। কারণ তথাকথিত প্রগতিশীল পত্রিকাগুলো শিখিয়েছে, ওরা হাই কালচার না, ওদের জন্য কেঁদো না। প্রগতিশীল পত্রিকা শিখিয়েছে-যে হাই কালচারের না, যে লো কালচারের, তার জন্য তোমার কাঁদতে হবে না।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, স্বাধীনতার পক্ষশক্তি ও বিপক্ষশক্তি; এই বাইনারিটি অনেক ব্যবহার করা হতো, এখন এই বাইনারিটাকে নতুনভাবে দেখার সময় এসেছে। বিপক্ষ শক্তি হলো সে, যে গত ১৫ বছর আমার সার্বভৌমত্ব কম্প্রমাইজ করেছে। স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি হলো সে, যে আমার দেশ থেকে নির্বাচন জিনিসটা উঠিয়ে নিয়েছে। আমার দেশে কে শাসন করবে, তা আরেক দেশে বসে নির্ধারণ করা হতো। আমার দেশে কে মন্ত্রী হবে, কে কী হবে-এগুলো আরেকজন নির্ধারণ করতো। আপনি যখন আপনার দেশের সকল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভাগ আরেক জায়গায় তুলে দিয়ে বলেন যে আমি স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি-এর চাইতে বড় তামাশা হতে পারে না। আমরা স্বাধীনতা চেয়েছিলাম, আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, এখন আমরা দেশ পুনর্নির্মাণের কাজ করবো।

এফএআর/বিএ