পূর্বাচলে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা ক্রেতা-দর্শনার্থীদের পদচারণায় জমে উঠেছে। আর মাত্র সপ্তাহ খানেক পর পর্দা নামবে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার ৩০তম আসরের। মেলায় তৃতীয় ছুটির দিনে তাই ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে মেলা প্রাঙ্গণ।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে সরেজমিনে পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় এমনই চিত্র দেখা যায়। মেলার শেষ সময়ে এসে ক্রেতার সংখ্যাই বেশি। এদিকে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়ায় হাসি ফুটেছে ব্যবসায়ীদের মুখে।
মেলা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী বাণিজ্যমেলার ৩০তম আসর। এবারের মেলায় প্রথম দিকে ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে ক্রেতা দর্শনার্থীর উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। মেলার পঞ্চম দিন থেকে তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় মেলায় লোকসমাগম বাড়তে থাকে। তবে ছুটির দিন থাকায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। মাসব্যাপী এ মেলায় এখন প্রতিদিনই দুপুরের পর থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতা, উদ্যোক্তা আর দর্শনার্থীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
মেলায় দেশি-বিদেশি স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলোতে ইতোমধ্যেই বিশেষ অফার ও মূল্যছাড়ের ছড়াছড়ি চলছে। এ সমস্ত ছাড় ও অফার লুফে নিতে শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনকে কেন্দ্র করে মেলা প্রাঙ্গণ যেন জনসমুদ্রে রূপ নেয়।
মেলায় কেনাকাটা করছিলেন শামসুন্নাহার। তিনি জানান, প্রতিবছর সাংসারিক গুরুত্বপূর্ণ অধিকাংশ জিনিসপত্রই বাণিজ্যমেলা থেকেই কিনে থাকেন। কারণ হিসেবে তিনি জানান, মেলায় একই ছাদের নিচে প্রয়োজনীয় সকল পণ্য অফার ও ছাড়ে ক্রয় করা যায়। সংসারের প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র কিনলাম।
আড়াই হাজার থেকে বন্ধুদের সঙ্গে মেলায় এসেছেন আশরাফ ভূঁইয়া। তিনি বলেন, আমরা চার বন্ধু মিলে চারটি ব্লেজার কিনলাম। পছন্দসই জিনিস বিশেষ ছাড়ে পেলে আরও কিছু কেনার ইচ্ছা আছে।
সাকুরা হান্ডি ক্যাপসের ম্যানেজার রাকিব হোসেন জানান, প্রতিদিনই দুপুরের পর থেকেই মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থী বেশি থাকে। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মেলা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। ভালো বিক্রিও হচ্ছে।
মেলার ইজারাদার ডিজি ইনফোটেক লিমিটেডের ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম হৃদয় বলেন, প্রথম দিকে শৈত্যপ্রবাহের কারণে জনসমাগম তুলনামূলক কম থাকলেও সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে মেলা জমে উঠেছে। এমনিতেও মেলা শেষের দিকে, তার ওপর শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি খুবই সন্তোষজনক।
নাজমুল হুদা/এমএন/জেআইএম