মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি হোক কিংবা উপমহাদেশের সংস্কৃতি—সবখানেই সঙ্গীত জ্ঞান ও চেতনা জাগ্রত করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এই কারণেই দেবী সরস্বতীর তাৎপর্য কেবল ধর্মীয় নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ‘সরস্বতী পূজা-২০২৬’ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, দেবী সরস্বতী একজন নারী—এটি একটি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করে। জ্ঞানের মূলেই আছেন নারীরা। মা, দাদি, বোন—সবার কাছ থেকেই আমরা জীবনের প্রথম শিক্ষা পাই। এমনকি আমাদের গ্রামীণ কৃষক নারীরাও জানেন, কোন বীজ কখন বুনতে হয়, কখন শুকাতে হয়, কখন কী করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়—এ এক গভীর প্রজ্ঞার পরিচয়।
ফরিদা আখতার বলেন, আমাদের ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যাপীঠে আসে মূলত বই পড়তে ও জ্ঞান অর্জন করতে। কিন্তু দেবী সরস্বতী আমাদের যে শিক্ষা দেন, তা শুধু বইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। শাস্ত্র অনুযায়ী তার হাতে বই নয়, থাকে বীণা। এর মধ্য দিয়েই বোঝা যায়—সঙ্গীত, শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমেও জ্ঞান বিকশিত হয়।
ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, সরস্বতী শুধু একটি ধর্মীয় প্রতীক নন। তিনি বসে আছেন পদ্মের ওপর—যার শিকড় কাদায়, মাঝখানে জল, আর ফুল উঠে আসে আলো ও আকাশের দিকে। অর্থাৎ পৃথিবী, জল, অগ্নি বা আলো, বায়ু ও আকাশ—এই পঞ্চভূতের সমন্বয়েই জ্ঞান পূর্ণতা লাভ করে। তার পাশে থাকা হংসও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক, যা কাদা-পানির মধ্যেও নিজেকে নির্মল রাখতে জানে। জ্ঞান আমাদের জীবনেও ঠিক সেই কাজটিই করে। তিনি বলেন, এ কারণেই সরস্বতী শুধু সনাতন ধর্মের পূজার বিষয় নন; তিনি আমাদের সামগ্রিক সংস্কৃতির অংশ।
উপদেষ্টা বলেন, আজ আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের কথা বলছি, একটি ভীতিকর ভবিষ্যতের আশঙ্কার কথাও উঠে আসছে। কিন্তু যদি আমরা আমাদের দেশের প্রাণবৈচিত্র্য, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করতে পারি, তাহলে যত বড় পরিবর্তনই আসুক না কেন, আমরা তা মোকাবিলায় দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে সক্ষম হব।
পূজা উদযাপন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য ড. নেছার উদ্দিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুর রব খান এবং স্কুল অব হেলথ অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেস এর ডিন অধ্যাপক দীপক কুমার মিত্র।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষকবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এনএইচ/এমএমকে