দেশজুড়ে

ফরিদপুরে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ‘আলোর দিশা’ নামক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে রাজ্জাক মাতুব্বর (৪১) নামে এক যুবকের মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ওই যুবককে হত্যার অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা।

ঘটনার পর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রটির মালিক মিজানুর রহমানসহ সেখানে কর্মরতরা পালিয়ে গেছেন। এসময় নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি থাকা অন্তত ৫০ জন রোগী কেন্দ্রটি থেকে বের হয়ে যেতে ভেতরে ভাঙচুর চালায়।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা সদরের নওপাড়া গ্রামে অবস্থিত ওই মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাজ্জাক মাতুব্বর ভাঙ্গা পৌরসভার পূর্ব হাসামদিয়া গ্রামের মৃত ছামাদ মাতুব্বরের ছেলে।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, রাজ্জাক মাতুব্বর মাদকে আসক্ত থাকায় গত মঙ্গলবার রাতে তাকে ওই মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কেন্দ্র থেকে ফোন করে রাজ্জাক অসুস্থ বলে জানানো হয়। খবর পেয়ে তারা ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে রাজ্জাকের মরদেহ দেখতে পান।

নিহত রাজ্জাকের ভাই সাকিব অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাইকে প্রচণ্ড মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে। ভোরের দিকে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আমাদের খবর দেওয়া হয়। আমরা হাসপাতালে গিয়ে আমার ভাইয়ের মরদেহ পাই। আমরা আমাদের ভাই হত্যার বিচার চাই এবং দোষীদের শাস্তি চাই।

এদিকে ঘটনার পর সেখানে ভর্তি থাকা রোগীরা জানালা-দরজাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। খবর পেয়ে ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, রোগীদের স্বজন ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ভাঙ্গা হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং নাক ও কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এন কে বি নয়ন/এফএ