টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে খেলতে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) শেষ চেষ্টা হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ডিসপিউট রেজুলিউশন কমিটির (ডিআরসি) দ্বারস্থ হয়েছে। শ্রীলঙ্কায় খেলতে চেয়ে আইসিসির স্বাধীন এই কমিটির কাছে আবারও চিঠি পাঠিয়েছে বিসিবি।
যদিও ভারতীয় মিডিয়া এনডিটিভির এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, আইসিসির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই কমিটি (ডিআরসি) বিসিবির আপিল শুনতেই পারবে না বলে জানা গেছে।
এনডিটিভি তাদের প্রতিবেদনে এ নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছে। সেখানে তারা লিখেছে- বিসিবির পক্ষ থেকে আইসিসির স্বাধীন ডিআরসিকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে বোর্ড অব ডিরেক্টরসের সিদ্ধান্ত— ভারতেই বাংলাদেশের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন— পুনর্বিবেচনা করা হয়। কিন্তু আইসিসির সংবিধান ও ডিআরসির ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ অনুযায়ী, এই উপকমিটির আইসিসির নেয়া কোনো সিদ্ধান্ত বাতিল বা পরিবর্তনের এখতিয়ার নেই।
বিসিবির এক সূত্র পিটিআইকে জানিয়েছে, ‘বিসিবি সব ধরনের বিকল্প ব্যবহার করতে চায় বলেই ডিআরসির স্মরণাপন্ন হয়েছে। যদি ডিআরসি বিপক্ষে রায় দেয়, তাহলে শেষ ভরসা হিসেবে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস (সিএএস), সুইজারল্যান্ডে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।’
উল্লেখ্য, কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে সরিয়ে দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়। এরপরই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ঘোষণা দেন, বাংলাদেশ দল ভারতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে যাবে না।
এরই মধ্যে আইসিসির বোর্ড অব ডিরেক্টরস জরুরি এক সভায় ভোটাভুটিতে ১৪–২ ভোটে সিদ্ধান্ত নেয় যে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতেই অনুষ্ঠিত হবে। একটি স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নে ঝুঁকির মাত্রা ‘কম থেকে মাঝারি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে আসিফ নজরুল স্পষ্ট করে জানান, এই সিদ্ধান্ত বিসিবির নয়, সরকারের এখতিয়ারভুক্ত।
আইসিসির ডিআরসির শর্তাবলীর ১.৩ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, ‘আইসিসির বোর্ড অব ডিরেক্টরস বা আইসিসির অধীনে গঠিত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শোনার এখতিয়ার এই কমিটির নেই।’
আইসিসির এক বোর্ড সূত্রের ভাষ্য, ‘বাংলাদেশ চাইলে ডিআরসির কাছে যেতে পারে; কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী এই মামলা শোনার কোনো সুযোগই নেই স্বাধীন ডিআরসি।’
এদিকে আইসিসি ইতোমধ্যে স্কটল্যান্ডকে বিকল্প দল হিসেবে প্রস্তুত থাকতে বলেছে। জানা গেছে, আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন এবং শনিবারের (আজ) মধ্যেই বাংলাদেশের পরিবর্তে অন্য দল নেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
আইসিসির অভ্যন্তরে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। আইসিসি বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, ‘আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর আগেই সংবাদ সম্মেলন করায় বোর্ড সদস্যরা ক্ষুব্ধ। ড. আসিফ নজরুল আইসিসির কাছে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’; কিন্তু বুলবুলের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল।’
উল্লেখ্য, ডিআরসি ব্রিটিশ আইনের আওতায় পরিচালিত হয়। ২০১৮ সালে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) করা ৭ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি এই কমিটিই খারিজ করে দিয়েছিল। তখন ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিকে ‘বাধ্যতামূলক নয়, বরং লেটার অব ইনটেন্ট’ বলে উল্লেখ করা হয়।
ডিআরসির বর্তমান প্রধান ইংল্যান্ডের আইনজীবী মাইকেল বেলফ। ১১ সদস্যের এই কমিটিতে বিভিন্ন অঞ্চলের স্বাধীন আইনজীবী ও আইসিসির শীর্ষ কর্মকর্তারা রয়েছেন। তবে কমিটির মূল কাজ হলো আইসিসি বোর্ড সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নিয়ম মেনেছে কি না—তা যাচাই করা, কোনোভাবেই এটি আপিল ট্রাইব্যুনাল নয়।
সব মিলিয়ে, ডিআরসিতে যাওয়ার মাধ্যমে বিসিবি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে চাইলেও বাস্তবে এই পথে তাদের সাফল্যের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে মনে করছেন ক্রিকেট প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মহল।
আইএইচএস/