রাজনীতি

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোকোর কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার কবর জিয়ারত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে কোকোর কবরে ফাতেহা পাঠ ও দোয়া করেন তিনি। বিএনপির মিডিয়া সেল এসব তথ্য জানিয়েছে।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কোকোর মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। বনানীতে তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও কবর জিয়ারত করেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শনিবার বনানী কবরস্থানে কোকোর কবর জিয়ারত শেষে তার জীবনী ও কর্মজীবনের নানা দিক তুলে ধরেন আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা নাজিম উদ্দীন আলম।

তিনি বলেন, কোকোর মৃত্যু শহীদ জিয়া পরিবার ও বিএনপির জন্য আজও এক গভীর শোকের স্মৃতি হয়ে আছে। তার মাগফিরাত কামনায় দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। আরাফাত রহমান কোকো কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সংসদের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রদ্ধা জানিয়েছে, সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।

নাজিম উদ্দীন আলম আরও বলেন, ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি দেশের গণআন্দোলনের এক শ্বাসরুদ্ধকর সময়ে, স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের পুলিশি অবরোধে গুলশানে নিজ কার্যালয়ে আটকে থাকা ‘মা’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়েই প্রবাসী জীবনে মালয়েশিয়ায় আকস্মিকভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন আরাফাত রহমান কোকো। তার এই অকাল মৃত্যুতে দেশবাসী শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়ে। প্রিয় পুত্রের মরদেহ দেখে অবরুদ্ধ বেগম খালেদা জিয়া কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। সেই সময় কোকোর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বৈরাচার আওয়ামী বাকশালী সরকারের পক্ষ থেকে লাশ দেখা ও সমবেদনা নিয়ে চালানো হয় এক নিকৃষ্ট ও ঘৃণ্য রাজনৈতিক কূটকৌশল। মৃত্যুকালে কোকোর বয়স হয়েছিল ৪৫ বছর।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম হলেও কোকো রাজনীতিক হিসেবে নয়, বরং একজন ব্যবসায়ী ও ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিলেন। ব্যবসা, ক্রীড়া এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেই তিনি নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। সাধারণ মানুষের মতো সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন কোকো।

তারেক রহমানের এই উপদেষ্টা বলেন, কোকো মাঝেমধ্যেই খেলনা ও চকলেট নিয়ে পথশিশুদের কাছে ‘সারপ্রাইজ’ হিসেবে হাজির হতেন। তাদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতেন। মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালেও তিনি ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে খুব সাধারণ জীবনযাপন করতেন। নিজেই প্রতিদিন দুই মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিতেন এবং ফিরিয়ে আনতেন। বিনয়ী ও প্রচারবিমুখ এই মানুষটির ব্যক্তি চরিত্র নিয়ে তার চরম শত্রুরাও কোনো ত্রুটির কথা বলতে পারবে না।

এছাড়া আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ও সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত সিলেট-৬ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ইমরান আহমেদ চৌধুরীর পক্ষ থেকেও কোকোর কবরে কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়।

এ সময় আরও শ্রদ্ধা নিবেদন করে আরাফাত রহমান কোকো কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সংসদ, জাতীয় জনতা ফোরাম, বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি, ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।

কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদনকালে বিএনপি নেতা ও সাবেক ছাত্রনেতা শাহজালাল মিয়া সম্রাট, জাতীয় জনতা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বাংলাপোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার, বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান ও ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের অন্যতম সমন্বয়ক মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কেএইচ/ইএ