আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সামাজিক মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিএনপি। এসব পরিকল্পনা সংবলিত লিফলেট ভোটারদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন বিভিন্ন আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা।
পরিকল্পনার প্রধান দিকসমূহ—
১. মাসিক সম্মানী আর্থিক নিরাপত্তাআর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে মাসিক সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এটি তাদের মৌলিক জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
২. সার্ভিস রুল বা চাকরিবিধি প্রণয়নমসজিদ কমিটির খামখেয়ালিপনা বা অনিশ্চয়তা দূর করতে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট চাকরিবিধি (Service Rule) প্রণয়ন করা হবে। এর ফলে তাদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং নিয়োগ-চ্যুতির ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষা পাওয়া যাবে।
৩. দক্ষতা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বিভিন্ন বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে তারা আধুনিক সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিকল্প আয়ের উৎস তৈরি করতে পারবেন।
৪. মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের প্রসার১৯৯৩ সালে বিএনপির আমলে শুরু হওয়া ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ সারা দেশে আরও বিস্তৃত ও আধুনিকায়ন করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
৫. উৎসব ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাধর্মীয় উৎসবগুলোতে বিশেষ ভাতার পাশাপাশি অন্যান্য পেশাজীবীদের মতো তাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
৬. সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিরাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কার্যক্রমে আলেম-ওলামাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং সামাজিক বিচার ও সংস্কারমূলক কাজে তাদের নেতৃত্বের স্বীকৃতি প্রদান করা এই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য।
৭. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিবিএনপির এই পরিকল্পনায় শুধুমাত্র মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের নয় বরং অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের (হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও অন্যান্য) উপাসনালয়গুলোর প্রধানদের জন্যও সমমানের সম্মান ও সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যা ‘রেইনবো নেশন’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে সহায়ক হবে।
এমইউ/এমএমকে