বরগুনা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মণি তার নির্বাচনি সভায় বলেছেন, ‘হিন্দু ভাইদের দিকে যদি কেউ চোখ বাঁকা করে তাকায়, আজকে ঘোষণা করলাম আমি যদি এমপি হই, চোখ উঠাইয়া ফেলবো। এক চুলও ছাড় দেওয়া হবে না।’
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে বরগুনা-২ আসনের বামনা উপজেলার বুকাবুনিয়া ইউনিয়নে আয়োজিত নির্বাচনি সভায় তিনি এ কথা বলেন।
নূরুল ইসলাম মণি আরও বলেন, এই দেশে আমাদের হিন্দু ভাইরা আছে। তারা এই দেশের নাগরিক। তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের নাগরিক সবাই। এই দেশে কোনো সংখ্যালঘু নাই। এই দেশের নাগরিক যারা তাদের জন্য দেশের সংবিধান যে অধিকার সংরক্ষণ করেছে সেই অধিকার তারা ভোগ করবে। সেই ভোগে যদি কেউ বাধা দেয় তাকে আমি প্রতিহত করবো, এটা আমার দায়িত্ব। তারা জান, মাল এবং ধর্মের জন্য নিরাপত্তা চায়। এই তিনটি মাত্র দায়িত্ব, ইনশাআল্লাহ তারেক রহমান যদি বেঁচে থাকেন এবং আমি যদি বেঁচে থাকি শতভাগ নিশ্চিত করা হবে।
জামায়াত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে এই কয়টা লোক যদি বিপক্ষে না দাঁড়াইতো তাহলে যেদিন আমরা ঘোষণা দিয়েছি সেদিন দেশ স্বাধীন হত না? অর্থাৎ রাজাকার ওই কয়জন যদি বিপক্ষে না দাঁড়াইতো তাইলে দেশ স্বাধীন করতে কি আমাদের পরিশ্রম করা লাগতো? ৩০ লাখ মানুষের জীবন দিতে হত? দুই লাখ মা-বোন ধর্ষিতা হয়েছে এবং তারা করেছে। কারা করেছে আপনারা বোঝেন, এই দাঁড়িপাল্লা।
সভায় উপস্থিত স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে। যারা আপনার জন্মের বিরোধিতা করেছে, তারা এসে আপনাদের কাছে ভোট চায়। এই ভোট আপনারা দিতে পারেন? যারা এই দেশের বিরোধিতা করেছে, দেশই চায়নি, তারা এখন ভোট চায়। আপনারা বোঝার চেষ্টা করেন, তারা নানান কৌশল করে কতরকম কথা বলে যে, বেহেশত দিয়ে দিবে। যারা মরার পরের বেহেশত পৃথিবীতে দিতে পারে, তাদের ক্ষমতার দরকার কী? দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে যদি জান্নাতে যাওয়া যায়, তাহলে আমি খুন, ডাকাতি এবং রাহাজানি যা আছে সব করবো। আমি জানিই তো আমার বেহেশত নিশ্চিত। এজন্য এই দেশের যত চোর খুনি গুন্ডাপাণ্ডা বদমাশ সব লাইন দিয়েছে তাদের সঙ্গে।
নুরুল আহাদ অনিক/এফএ/জেআইএম