দেশজুড়ে

নির্বাচনে পোস্টার নেই, মুদ্রণ ব্যবসায়ীদের কোটি টাকার ক্ষতি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় পোস্টার নিষিদ্ধ হওয়ায় হতাশা দেখা দিয়েছে যশোরের মুদ্রণ ব্যবসায়ীদের মাঝে। নির্বাচনকে ঘিরে সবসময় বিপুল কর্মযজ্ঞ থাকলেও এবার যশোরের প্রেস পট্টিতে কোনো চাপ নেই। পোস্টার ছাপা না হওয়ায় এই জেলার মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তারা নির্বাচন কমিশনকে পোস্টার নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্যও অনুরোধ জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সাধারণত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ ছড়িয়ে পড়ে প্রেস পট্টিতে। এটিকেই সবচেয়ে বড় মৌসুম বলে মনে করেন মুদ্রণ শিল্পের মালিকরা। কিন্তু এবার ভোটের প্রচারে কড়াকড়ি আরোপ করাসহ অসৎ উদ্দেশ্যে এআই ব্যবহারে মানা, পোস্টার ও ড্রোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন যশোরের মুদ্রণ শিল্পের সঙ্গে জড়িত মালিক ও শ্রমিকরা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মূলত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণে জমজমাট হয়ে উঠে ভোটের প্রচার-প্রচারণা। গত তিনটি নির্বাচন একপক্ষীয় হওয়ায় তাদের ব্যবসা তেমন হয়নি। সবার দৃষ্টি ছিল এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে। কিন্তু ইসি পোস্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় হতাশা নেমে এসেছে মুদ্রণ শিল্পে জড়িতদের মাঝে।

এই ঘোষণায় যশোরের মুদ্রণ শিল্পে জড়িত প্রেস মালিকদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। যশোর জেলা মুদ্রণ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহিনশাহ রানা জানান, তাদের সমিতিতে ১১০টি প্রেস রয়েছে। এর মধ্যে ১০-১২টি প্রেস নির্বাচনের পোস্টার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল মুদ্রণ করে থাকে। এবারের নির্বাচনে পোস্টার লাগানো নিষেধ করায় এই প্রেস সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চরম হতাশা নেমে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে আমরা সবাই চেয়ে থাকি। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি পোস্টার-ব্যানার বানানো হয়ে থাকে। ইসির এই ঘোষণায় যশোরের মুদ্রণ শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রেস মালিকদের আনুমানিক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, এবার ভোটের প্রচারে ড্রোন, পোস্টার ব্যবহার ও বিদেশে প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ জারি করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, ২০টির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে না, একমঞ্চে ইশতেহার ঘোষণা ও আচরণবিধি মানতে। প্রার্থী ও দলের অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। আচরণবিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও দেড় লাখ জরিমানা এবং দলের জন্য দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে তদন্ত সাপেক্ষে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও রয়েছে ইসির।

যশোর জেলা মুদ্রণ মালিক সমিতির যুগ্ম-সম্পাদক আবু ইসহক বাবু জানান, ৫ বছর পরপর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে আমরা তাকিয়ে থাকি। কিন্তু এবার নির্বাচন কমিশন আমাদের হতাশ করেছে। তাদের এই ঘোষণার কারণে আমরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কেননা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের যে ব্যবসা হয়ে থাকে সেটির উপর আমরা অনেক নির্ভর করে থাকি।

সংগঠনের প্রচার সম্পাদক ও বিপ্লব প্রিন্টিং প্রেসের মালিক বিপ্লব মাহমুদ জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আমরা উৎফুল্ল হয়েছিলাম। কিন্তু ইসি প্রচার প্রচারণায় পোস্টার নিষেধ করায় আমাদের মতো মুদ্রণ শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। প্রার্থীরা কিছু হ্যান্ডবিল ছাপলেও তা অপ্রতুল।

এমএন/জেআইএম