লাইফস্টাইল

শুধুই রাগ নাকি মানসিক ডিসঅর্ডার?

দুঃখ, বেদনা, ভালোবাসার মতোই রাগ একটি মানুষের সহজাত আবেগ। যা মানুষের মনের মানসিক নেতিবাচক আচরণকে প্রকাশ করে। পারিবারিক কলহ, সম্পর্কের টানাপোড়েন, পরীক্ষার খারাপ ফলাফল, মানসিক চাপ ইত্যাদি নানাবিধ কারণে রাগ হতে পারে।

রাগ করা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু রাগ তখনই অস্বাভাবিক হয় যখন রাগ অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। আমরা রাগকে স্বাভাবিক আবেগীয় উপাদান হিসেবে দেখি কিন্তু প্রকৃতপক্ষে অতিরিক্ত রাগও হতে পারে মানসিক রোগের লক্ষণ। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ইন্টারমিটেন্ট এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডার বলে।

ইন্টারমিটেন্ট এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডার হলো একটি মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা। যেখানে ব্যক্তি হঠাৎ করে তীব্র রাগ, আক্রমণাত্মক আচরণ বা সহিংস প্রতিক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এই রাগের বিস্ফোরণগুলো সাধারণত খুবই আকস্মিক ও নিয়ন্ত্রণহীন হয় এবং যে পরিস্থিতিতে যতটা প্রতিক্রিয়া দেখানোর কথা, তার থেকে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

কখন বুঝবেন আপনার ইন্টারমিটেন্ট এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডার থাকতে পারে?

ইন্টারমিটেন্ট এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডার প্রকাশ করার বেশ কিছু লক্ষণ আছে। যেমন –

>> হঠাৎ করেই কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই খুব দ্রুত রেগে যাওয়া এবং আক্রমণাত্মক আচরণ করা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই ধরনের আচরণ ৩০ মিনিটের কম সময় স্থায়ী হয়। কখনো এমন প্রতিক্রিয়া ঘন ঘন হতে পারে, আবার কখনো কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পরপর দেখা দেয়। অনেক সময় ব্যক্তি দিনের বেশিরভাগ সময়ই খিটখিটে, আবেগপ্রবণ, আক্রমণাত্মক বা রাগান্বিত অনুভব করেন।

>> রাগের আক্রমণাত্মক আচরণ প্রতিক্রিয়া দেখানোর পূর্বে তীব্র রাগ, খিটখিটে ভাব, অতিরিক্ত চিন্তা ও চাপ, মাথায় একের পর এক চিন্তা খুব দ্রুত ঘুরতে থাকা।

>> ঝিনঝিন অনুভূতি, দ্রুত বা জোরে হৃদস্পন্দন ইত্যাদি অনূভুতি অনুভব করা।

এই সমস্যাটি আপনার জীবনে অনেক ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। ইন্টারমিটেন্ট এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডারের কারণে ব্যক্তি যে যে ধরনের জটিলতায় পড়তে পারেন -

১. সম্পর্কের অবনতি ইন্টারমিটেন্ট এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডারের কারণে সম্পর্কের অবনতি প্রায়ই দেখা যায়। অতিরিক্ত রাগের কারণে সঙ্গীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার, সঙ্গীকে শারীরিকভাবে আঘাত করতে দেখা যায়।

২. দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ইন্টারমিটেন্ট এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডারের রোগীরা তাদের অতিরিক্ত রাগের কারণে বেশিরভাগ সময় দৈনন্দিন কাজকর্ম ঠিকমতো করতে পারেন না। এতে করে কেউ কেউ চাকরি হারানো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কারের মতো সমস্যার সম্মুখীন হন।

৩. আবেগ জনিত সমস্যা অতিরিক্ত রাগের কারণে ব্যক্তি নিজেই অনেক সময় নিজের ওপর বিরক্ত থাকেন। বেশিরভাগ সময় ব্যাক্তি ইন্টারমিটেন্ট এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডারের কারণে হতাশা,মানসিক অবসাদে ভোগেন। অনেক সময় এসব চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা অথবা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে।

৪. শারীরিক অবনতি ইন্টারমিটেন্ট এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডার শুধু মানসিক ক্ষতিই করে না, শারীরিকভাবেও ব্যাপক ক্ষতি করে। ইন্টারমিটেন্ট এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডারের কারণে দীর্ঘমেয়াদি শরীর ব্যথা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও স্ট্রোক, পেটের আলসার, উচ্চ রক্তচাপের মতো স্বাস্থ্য জনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ইন্টারমিটেন্ট এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডারের লক্ষনের সঙ্গে যদি আপনার নিজের আচরণের মিল খুঁজে পান, তাহলে একা চুপ করে কষ্ট সহ্য না করে অবশ্যই একজন চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে কথা বলুন।

তথ্যসূত্র: মায়ো ক্লিনিক

সানজানা রহমান যুথী/এএমপি/এমএস