জাতীয়

‘তথ্য অধিকার আইন’ সংশোধনে তথ্য অধিকার ফোরামের জরুরি প্রস্তাবনা

সম্প্রতি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদিত হয় তথ্য অধিকার অধ্যাদেশ, ২০২৬। তথ্য অধিকার আইন ২০০৯-এর সংশোধনকল্পে অনুমোদিত এ অধ্যাদেশে বিভিন্ন ধারার উপর ৩৭টি সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করে গত বছরের ৬ মার্চ একটি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করে এবং একই দিনে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠায় তথ্য অধিকার ফোরাম।

এ পর্যায়ে সংস্থাটির দৃষ্টিতে বিবেচ্য নিচে বর্ণিত অতি জরুরি সংশোধনীসমূহ তথ্য অধিকার আইন ২০০৯-এর সংশোধনীকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশে অর্ন্তভুক্ত করার জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে তথ্য অধিকার ফোরাম।

তথ্য অধিকার ফোরামের দৃষ্টিতে বিবেচ্য এই অতি জরুরি সংশোধনীগুলো হলো-

১. তথ্যের সংজ্ঞা: নথির নোট সিট পর্যালোচনা করার মাধ্যমেই কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নথি পরিচালনকারী প্রত্যেক কর্মকর্তা বা কর্মচারী কে কী ভূমিকা পালন করেছেন তা স্পষ্ট বোঝা যায়। কাজেই উপ-ধারা ২(চ)-এ তথ্যের সংজ্ঞায় নোট সিট অন্তর্ভুক্ত করা।

২. কর্তৃপক্ষের আওতা বৃদ্ধি: উপ-ধারা ২ (খ) (ই)-তে সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান এর পাশাপাশি সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত, বা স্থানীয় সরকার সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান শব্দগুলো যুক্ত করা; ধারা ২ (খ) (ঊ)-তে নিম্নোক্ত সংশোধন আনা-

সরকারের পক্ষে অথবা সরকার বা সরকারি কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বা উল্লিখিত কোনো সরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্স, পারমিট, অনুদান, বরাদ্দ, সম্মতি বা অনুমোদনের শর্ত মোতাবেক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচন কমিশন দ্বারা নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আনা।

৩. তথ্য কমিশন: ধারা ১১(১)-এ তথ্য কমিশন এর পরে বাংলাদেশ শব্দটি যুক্ত করা।

৪. প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারদের নিয়োগ, মেয়াদ, পদত্যাগ: নতুন উপধারা সংযোজন ১৫ (৮) প্রধান তথ্য কমিশনার বা তথ্য কমিশনারদের পদ শূন্য হলে সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের মধ্যে প্রধান তথ্য কমিশনার বা ক্ষেত্রমতো, তথ্য কমিশনার নিয়োগ করতে হবে।

৫. তথ্য কমিশনারদের পদমর্যাদা, পারিশ্রমিক ও সুবিধাদি: ধারা ১৭-তে অন্যান্য কমিশন বিশেষত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারদের পদমর্যাদা, পারিশ্রমিক, ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদি যথাক্রমে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের অনুরূপ নির্ধারিত করা।

৬.জরিমানা: আপিল কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনার লক্ষ্যে ধারা ২৭-এ নিম্নোক্ত সংশোধন আনা-

২৭ (১) কোনো অভিযোগ নিষ্পত্তির সূত্রে কিংবা অন্য কোনোভাবে তথ্য কমিশনের যদি এই মর্মে বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমতো কোনো আপিল কর্মকর্তা কোনো যুক্তিগ্রাহ্য কারণ ছাড়াই তথ্যপ্রাপ্তির কোনো অনুরোধ বা আপিল গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন।

গুরুত্বের বিবেচনায় যদিও অধ্যাদেশে অতি জরুরি প্রস্তাবনাগুলো অর্ন্তভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, আইনটির কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে অন্যান্য প্রস্তাবনাগুলোকেও বিবেচনায় নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ সংশোধনী আনা প্রয়োজন বলে তথ্য অধিকার ফোরাম মনে করে যা আইনের মূল প্রস্তাবনার লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।

এএমএ/এমএস