বাংলাদেশে কৃষি খাত দীর্ঘদিন ধরে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং সামষ্টিক অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের কৃষিনীতি নানা পর্যায়ে পরিবর্তিত হয়েছে, নতুন সম্প্রসারণ নীতি চালু হয়েছে এবং আধুনিক প্রযুক্তি, যান্ত্রিকীকরণ ও ক্ষুদ্রঋণের সহায়তায় উৎপাদনশীলতা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় কৃষি খাতকে কাঠামোগতভাবে পরিচালনা করার জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, যেমন : জাতীয় কৃষি নীতি ২০১৮, জাতীয় কৃষি সম্প্রসারণ নীতি ২০১৭, খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত ও বিপণন আইন ২০১৩, সার ব্যবস্থাপনা আইন ২০১৮ এবং বীজ আইন ২০১৮, পাশাপাশি কৃষি বিপণন আইন ২০১৮, বালাইনাশক আইন ২০১৭ এবং উদ্ভিদ সংরক্ষণ আইন ২০১১-এর মতো নীতিগত কাঠামো কৃষিকে নিরাপদ, নিয়ন্ত্রিত এবং বৈজ্ঞানিক পথে এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
এসব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কৃষি আজও বহুমাত্রিক সংকট ও রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের চাপ, শ্রম ঘাটতি, আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষিপণ্যের প্রতিযোগিতা, আমদানি-নির্ভর যন্ত্রপাতির উপর নির্ভরশীলতা, সার ব্যবস্থাপনায় অপচয় এবং কৃষিপণ্যের মূল্যে অস্থিরতা এসব কারণে দীর্ঘদিন ধরেই একটি দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও গবেষণানির্ভর মহাপরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছিল। অবশেষে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কৃষি বিশেষজ্ঞ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা, উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বয়ে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ২৫ বছরের একটি কৃষি মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের দিকে এগোচ্ছে, যার খসড়া ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রস্তুত হবে বলে জানা গেলো। এটি দেশের কৃষি ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কৌশলগত ও নীতিগত রূপরেখা হয়ে উঠতে পারে। লক্ষ্য শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়; বরং কৃষিকে এমন এক আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক এবং টেকসই পেশায় রূপান্তর করা, যা কৃষকের জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিকে আরও মজবুত করবে।
বাংলাদেশে ইতঃপূর্বে বিভিন্ন সেক্টরের সংস্কার কমিশন থাকলেও কৃষিখাতে কোনো স্বাধীন সংস্কার কমিশন গঠিত হয়নি। অথচ কৃষি এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে নীতি সংস্কার, ধারাবাহিক পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ছাড়া উন্নয়ন কখনোই টেকসই হয় না। কৃষির উৎপাদনব্যবস্থা, বাজার কাঠামো, গবেষণা এবং প্রযুক্তি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় একটি কার্যকর সংস্কার কাঠামোর প্রয়োজন অনেক দিন ধরেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল এবং সময়ের দাবি হিসেবে সামনে এসেছে।
তবে আশার আলো হলো, আলাদা কোনো কৃষি সংস্কার কমিশন না থাকলেও কৃষি মন্ত্রণালয় কার্যত কমিশনের সমতুল্য একটি অংশগ্রহণমূলক ও পরামর্শভিত্তিক কাঠামো গড়ে তুলেছে। দেশের ১৩টি প্রধান কৃষিখাতের বাস্তবতা, এর অধীন অসংখ্য উপখাতের প্রয়োজন এবং ১৭টি গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার তথ্য ও অভিজ্ঞতা সবকিছুকে সমন্বয় করে প্রতিটি ক্ষেত্রে পৃথক রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে নীতিনির্ধারণে জ্ঞানের প্রয়োগ, মাঠের অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন এবং প্রযুক্তির সঠিক অভিযোজন একসূত্রে গাঁথা থাকবে। এর ফলে একটি সুসংহত, তথ্যসমৃদ্ধ ও ভবিষ্যতমুখী কৃষি উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সমন্বিত প্রচেষ্টাই কৃষির ভবিষ্যৎকে আরও টেকসই, আধুনিক এবং বৈজ্ঞানিক পথে এগিয়ে নেওয়ার ভিত্তি গড়ে তুলছে।
বাংলাদেশের কৃষিনীতির যাত্রা মূলত তিনটি পর্যায় অতিক্রম করেছে এবং প্রতিটি ধাপ কৃষির কাঠামোকে আলাদাভাবে প্রভাবিত করেছে। প্রথম পর্যায়ে ১৯৭১ থেকে ১৯৯০ দশক পর্যন্ত খাদ্যনিরাপত্তা ছিল মূল লক্ষ্য, যেখানে উচ্চফলনশীল জাত, সেচ ও সার ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো হলেও টেকসই কৃষির ভিত্তি দুর্বলই রয়ে যায়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০০০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাজার ও প্রযুক্তিনির্ভর সম্প্রসারণ নীতি, বীজনীতি ও যান্ত্রিকীকরণ উৎপাদন বহুগুণ বাড়ায়, যদিও মূল্য অস্থিতিশীলতা ও শ্রমসংকট নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। তৃতীয় পর্যায়ে ২০১৫ সালের পর ডিজিটাল কৃষি, কৃষিপূর্বাভাস, স্মার্ট যন্ত্রপাতি ও বৈচিত্র্যময় ফসলের প্রসার ঘটে, কিন্তু স্থানীয় যন্ত্রপাতির অভাব এবং দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি রপ্তানিকে সীমিত রাখে। এই অভিজ্ঞতার আলোকে ২৫ বছরের মহাপরিকল্পনা প্রতিটি খাতের জন্য লক্ষ্য, সূচক ও রোডম্যাপ নির্ধারণের মাধ্যমে কৃষিকে আরও পরিকল্পিত, আধুনিক ও টেকসই পথে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করছে।
বাংলাদেশের কৃষি এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের মুখোমুখি, যেখানে প্রযুক্তি, শ্রম, বাজার, জলবায়ু এবং গবেষণা মিলেমিশে একটি সমন্বিত কাঠামোর দাবি তৈরি করেছে। ২৫ বছরের মহাপরিকল্পনা সেই ঐতিহাসিক সুযোগ, যেখানে উৎপাদনশীলতা বাড়বে, বাজার হবে স্থিতিশীল, কৃষক হবে সম্মানিত, প্রযুক্তি হবে স্থানীয় এবং রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। এই পরিকল্পনা এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তাই বিভিন্ন পর্যায়ের মতামত, গবেষণা এবং সুবিবেচনার সমন্বয়ই এটিকে যুগোপযোগী ও সময়োপযোগী করে তুলবে। যদি মহাপরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে আগামী ২৫ বছরেই বাংলাদেশ কৃষি হবে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং বিশ্ব প্রতিযোগিতায় সক্ষম, যা সময়ের দাবি এবং দেশের কৃষির ভবিষ্যৎ যাত্রাপথ নির্ধারণ করবে।
কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত ১৭টি সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জন্যও আলাদা ২৫ বছর মেয়াদি রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদে কয়েকটি পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্প নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিটি প্রকল্পই বিশদ গবেষণা এবং পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। ২৫ বছরের মহাপরিকল্পনার কাঠামো বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় যে কৃষির প্রতিটি প্রধান খাতকে আধুনিক, কার্যকর এবং সময়োপযোগী ব্যবস্থার আওতায় আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতের কৃষি আরও দক্ষ, টেকসই এবং সংগঠিতভাবে এগিয়ে যেতে পারে।
এই মহাপরিকল্পনা দেশের কৃষিকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক এবং টেকসই পেশায় রূপান্তরের লক্ষ্যে নির্মিত। প্রযুক্তিভিত্তিক কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় স্থানীয়ভাবে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ কৃষিযন্ত্র উন্নয়নের পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা এখন অত্যন্ত জরুরি। হালকা প্রকৌশল শিল্পের দুর্বলতা কাটিয়ে সিএনসি-ভিত্তিক প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও দেশে ইঞ্জিন তৈরির মতো রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারেনি এবং পুরোনো শিল্পগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিল্পভিত্তিও দুর্বল হয়ে পড়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি শিল্পের যৌথ বিনিয়োগের পাশাপাশি যন্ত্রের খুচরা যন্ত্রাংশ এবং সার্ভিস হাব কেন্দ্রিক অঞ্চলভিত্তিক শিল্পও গড়ে উঠতে হবে। আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয়ভাবে কৃষিযন্ত্র তৈরির এই ইকোসিস্টেম তৈরি করছে ব্রিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। শ্রীলঙ্কা, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তিগত সহায়তায় দেশে এখন মানসম্পন্ন কৃষিযন্ত্র তৈরি হচ্ছে, যা সময়, ব্যয় এবং শ্রমসংকট মোকাবেলায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। মাঠপর্যায়ে উদ্যোক্তা সৃষ্টি, মেকানিক প্রশিক্ষণ, সার্ভিস হাব এবং খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ সব মিলিয়ে একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। তবে হালকা প্রকৌশল খাতের অদক্ষতা, সিএনসি-ভিত্তিক প্রযুক্তির অভাব এবং দক্ষ জনবল সংকটের কারণে স্থানীয় উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক মানের কম্বাইন হারভেস্টার বা রাইস ট্রান্সপ্লান্টার তৈরি করতে পারছেন না।
সার ব্যবস্থাপনায় সংস্কার অপরিহার্য, কারণ রাসায়নিক সার অপচয় দেশের কৃষি বাজেটে বিশাল চাপ সৃষ্টি করে। যে নীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে যার মাধ্যমে প্রতি বছর দুই থেকে তিন হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব হবে। চলতি বছর ইতোমধ্যে একহাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে বলে জানা গেছে। নীতি সংস্কারের মাধ্যমে টেন্ডার, বিতরণ এবং ভর্তুকির অপচয় কমিয়ে হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব। পাশাপাশি ডিজিটাল সার ম্যানেজমেন্ট, মাটির স্বাস্থ্য কার্ড এবং অঞ্চলভিত্তিক সার প্রয়োগ পদ্ধতি আরও উন্নত করা প্রয়োজন। নীতি সংস্কারের মাধ্যমে টেন্ডার, বিতরণ এবং ভর্তুকির অপচয় কমিয়ে হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব।
বাজার ও মূল্যস্থিতি নিশ্চিত করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পেঁয়াজ বা আলুসহ অন্যান্য ফসলের দামের অস্থিরতা সরাসরি কৃষকদের আয়ের ওপর প্রভাব ফেলে। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি ক্রয়, কৃষি পণ্য সংরক্ষণ গুদাম, কোল্ড স্টোরেজ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। পণ্য নষ্ট হওয়ার ভয় থেকে কৃষকদের আর্থিক ও মানসিক ক্ষতি রোধ করা প্রয়োজন।
রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য উন্নয়নে বাংলাদেশের সম্ভাবনা বিশাল। বিশ্ববাজারে কৃষি প্রক্রিয়াকরণ খাতের আয় চার ট্রিলিয়ন ডলার হলেও বাংলাদেশ মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের বাজারে অবস্থান করছে। ব্যবধান কমাতে একীভূত রপ্তানি অনুমোদন বা ওয়ানস্টপ সার্ভিসের ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক মান পরীক্ষাগারের সংখ্যা বৃদ্ধি, উন্নত ল্যাব স্বীকৃতি প্রাপ্তি এবং কান্ট্রি ব্র্যান্ডিং ও বাণিজ্যিক কূটনীতি আরও সক্রিয় করা জরুরি।
গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ধান গবেষণা, মাটির স্বাস্থ্য গবেষণা, বায়োটেকনোলজি, জলবায়ু-সহনশীল জাত এবং উচ্চফলনশীল হাইব্রিড জাত দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তাকে অনেকগুণ উন্নত করেছে। এখন লক্ষ্য হচ্ছে গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ১০ টনের উপরে তোলা, খরা ও লবণাক্ততা-সহনশীল এবং স্বল্পমেয়াদি জাত উদ্ভাবন, বন্যা মোকাবিলায় ভাসমান কৃষি বা মাল্টি-লেভেল কৃষি পদ্ধতির উন্নয়ন। দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকে কেবল জীবিকার খাত হিসেবে দেখা হলেও, এখন প্রয়োজন কৃষিকে সম্মানজনক ও শিক্ষিত পেশা হিসেবে গড়ে তোলা। এজন্য কৃষি শিক্ষার মানোন্নয়ন, গ্রামীণ উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য ভর্তুকি ও স্বল্পসুদে বিশেষ ফান্ড এবং ক্ষুদ্র ঋণ খাতের কার্যকারিতা বজায় রেখে টেকসই কৃষি বিনিয়োগ কাঠামো তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।
এই মহাপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্তি করার জন্য বিশিষ্টজন ও কৃষিবিদদের পক্ষ থেকে কিছু অতিরিক্ত এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা হলো। এই সুপারিশগুলো কৃষিকে কেবল আরও সমন্বিত ও সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রেই সহায়ক নয়, বরং কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক পেশায় রূপান্তরের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই মহাপরিকল্পায় কৃষি শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি কাঠামোর প্রবর্তনের করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশ্বের অনেক দেশে কৃষি শ্রমিকদের জন্য আলাদা ন্যূনতম মজুরি কাঠামো রয়েছে, যেমন : ইউরোপ, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং নিকট প্রতিবেশী দেশগুলোতে। বাংলাদেশে এই কাঠামোর অভাব তিনটি বড় সমস্যা সৃষ্টি করে।
শ্রমিকের আয় অস্থিতিশীল থাকে, ফলে কৃষি শ্রমের প্রতি আগ্রহ কমে। উৎপাদন ব্যয়ের হিসাব অনির্ভরযোগ্য হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে শ্রমনির্ভর কৃষি সংকটে পড়তে হয়। ২৫ বছরের মহাপরিকল্পনায় কৃষি শ্রমিকদের জন্য নির্দিষ্ট ন্যূনতম মজুরি কাঠামো থাকলে শ্রমিকের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে, শ্রম সংকট কমবে, কৃষি পেশার প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়বে এবং উৎপাদন ব্যয় পূর্বানুমানযোগ্য হবে। এটি মহাপরিকল্পনার একটি অপরিহার্য অংশ হওয়া উচিত।
বাংলাদেশের কৃষি এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের মুখোমুখি, যেখানে প্রযুক্তি, শ্রম, বাজার, জলবায়ু এবং গবেষণা মিলেমিশে একটি সমন্বিত কাঠামোর দাবি তৈরি করেছে। ২৫ বছরের মহাপরিকল্পনা সেই ঐতিহাসিক সুযোগ, যেখানে উৎপাদনশীলতা বাড়বে, বাজার হবে স্থিতিশীল, কৃষক হবে সম্মানিত, প্রযুক্তি হবে স্থানীয় এবং রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। এই পরিকল্পনা এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তাই বিভিন্ন পর্যায়ের মতামত, গবেষণা এবং সুবিবেচনার সমন্বয়ই এটিকে যুগোপযোগী ও সময়োপযোগী করে তুলবে। যদি মহাপরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে আগামী ২৫ বছরেই বাংলাদেশ কৃষি হবে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং বিশ্ব প্রতিযোগিতায় সক্ষম, যা সময়ের দাবি এবং দেশের কৃষির ভবিষ্যৎ যাত্রাপথ নির্ধারণ করবে।
লেখক: কৃষিবিদ, গবেষক ও প্রাবন্ধিক।rssarker69@gmail.com
এইচআর/জেআইএম