বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। রোববার দিবাগত রাত থেকেই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন তিনি। বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশ হয়। তবে সকাল হতেই দেখা গেলো মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবির অফিসে এসেছেন বুলবুল।
আজ সোমবার বিসিবি ম্যাচ রেফারিদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে বক্তব্য রেখেছেন বুলবুল। বিসিবির নিজস্ব বিভাগের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই কর্মসূচিটি পরিচালনা করছেন আম্পায়ার এডুকেশন কনসালটেন্ট সাইমন টাফেল।
বুলবুল নিজেও গতকাল জানিয়েছেন, ‘আমি আছি, আমি আপাতত অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছি না।’কিন্তু মধ্যরাতে যখন এ খবর চাউর হতে শুরু করলো, তখন একটা প্রশ্নের উদ্রেক ঘটলো, আমিনুল ইসলাম বুলবুল গতকাল, গত পরশুই বলেছেন, আমি আপাতত অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছি না। কিন্তু হঠাৎ তিনি চলে গেলেন, ব্যাপারটা কেমন খাপছাড়া মনে হচ্ছে না? তা নিয়ে অনেক গুঞ্জন, অনেক ডালপালা গজালো, গুজবটা আরও বড় হলো। ছোট গাছ থেকে বড় গাছে পরিণত হলো। এবং একটা ধারণার উদ্রেক ঘটলো যে আমিনুল ইসলাম বুলবুল কাউকে না বলে দেশ ত্যাগ করেছেন। এবং তার এই নীরব প্রস্থানকে কেন্দ্র করে নিয়ে অনেক প্রশ্ন জাগলো।
হঠাৎ তিনি কেন দেশের ক্রিকেটের এই অশান্ত পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপ খেলতে যেতে পারেনি বা যায়নি বাংলাদেশ, এই অবস্থায় তিনি দেশ ছাড়লেন কেন? সাকিব ইস্যুতে নতুন সিদ্ধান্ত নেবার পর যেখানে তার বোর্ডের সাথে কথা বলে সবকিছু চূড়ান্ত করার কথা এবং সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাকিবকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার প্রয়োজন, সেই সময়ে তিনি কেন দেশ ছেড়ে কেন দেশ ছেড়ে চলে গেলেন? এই প্রশ্নটা সবার।
এই প্রশ্ন যখন সবার মনে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে, ঠিক তখনই জানা গেল, তিনি যাননি। বহাল তবিয়তে ঢাকাতেই অবস্থান করছেন এবং আজ সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ তাকে দেখা গেল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। তিনি অন্যদিনের মতোই আসলেন এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সংলগ্ন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের যে মিডিয়া বিল্ডিং আছে, তার পাশ দিয়ে হেঁটে মাঠে ঢুকলেন এবং কিছুক্ষণ মাঠকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে আবার বোর্ডে চলে গেলেন।
এই গুঞ্জনের সত্যতা অসার প্রমাণ হলো, আমিনুল ইসলাম বুলবুলও বোর্ডে আছেন, সেই সত্যতার দেখা মিললো। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই প্রোপাগান্ডা এবং আমিনুল ইসলাম বুলবুল চলে গেছেন, এই রটনার রটনাকারী কে বা কারা? বাংলাদেশের অনেক বার্তা সংস্থা, ওয়েবসাইট, অনলাইন, এমন কি দৈনিক পত্রিকাও এই গুঞ্জনের সত্যতা বের করতে না পেরে গুঞ্জন প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছিল।
জাগো নিউজের পক্ষ থেকে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গে ভোর থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সাড়া মেলেনি। এ কারনেই জাগো নিউজও অনেকটা রিকনফার্ম হতে না পেরেও নিউজটা প্রকাশ করেছে, পাঠকদের কাছে জাগো নিউজ দুঃখ প্রকাশ করছে এরকম একটা ভুল সংবাদ পরিবেশনের জন্য।
এসকেডি/এআরবি/আইএন/জেআইএম