আন্তর্জাতিক

শুধু পথচারীদের জন্য রাফাহ ক্রসিং খুলতে রাজি ইসরায়েল

ইসরায়েল জানিয়েছে, গাজা ও মিশরের মধ্যকার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং ‘সীমিতভাবে’ পুনরায় চালু করা হলে সেখানে শুধু পথচারীদের যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে এটি কার্যকর হবে কেবল তখনই, যখন ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে থাকা শেষ ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ইসরায়েলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছরের অক্টোবর যে যুদ্ধবিরতি কাঠামো ঘোষণা করেছিলেন, তার অংশ হিসেবেই রাফাহ ক্রসিং পুনরায় খোলার কথা রয়েছে। তবে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনী রাফাহ দখলে নেওয়ার পর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথটি বন্ধ রয়েছে।

গত সপ্তাহের শেষে জেরুজালেমে আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতেরা রাফাহ খুলে দেওয়ার জন্য ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ওপর চাপ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো বারবার গাজায় আরও বেশি মানবিক সহায়তা প্রবেশের আহ্বান জানিয়ে আসছে। টানা দুই বছরেরও বেশি সময়ের যুদ্ধে বিধ্বস্ত গাজা চিকিৎসা সরঞ্জাম, খাদ্য ও অন্যান্য জরুরি সহায়তার প্রবাহের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরায়েল সম্পূর্ণ ইসরায়েলি পরিদর্শন ব্যবস্থার শর্তে কেবল পথচারীদের চলাচলের জন্য রাফাহ ক্রসিং খুলতে রাজি হয়েছে। এক্সে দেওয়া ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে তখনই, যখন সব জীবিত জিম্মিকে ফিরিয়ে আনা হবে এবং হামাস শতভাগ প্রচেষ্টা চালিয়ে সব নিহত জিম্মির মরদেহ খুঁজে বের করে ফিরিয়ে দেবে।

তবে এই সীমিত পুনরায় চালুতে চিকিৎসার প্রয়োজনে গাজা থেকে রোগীদের মিশর বা অন্য দেশে যাওয়ার অনুমতি মিলবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রোববার তারা গাজা উপত্যকার একটি কবরস্থানে শেষ জিম্মি র‌্যান গিভলির মরদেহ খুঁজতে তল্লাশি চালিয়েছে। নেতানিয়াহুর দপ্তর জানায়, এই অভিযান শেষ হলে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যা সমঝোতা হয়েছে তার ভিত্তিতে ইসরায়েল রাফাহ ক্রসিং খুলে দেবে।

এর আগে গাজার নবনিযুক্ত প্রশাসক আলি শাথ বলেছিলেন, চলতি সপ্তাহেই ক্রসিংটি ‘দুই দিকেই’ খুলে দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে আলি শাথ বলেন, গাজার ফিলিস্তিনিদের কাছে রাফাহ শুধু একটি গেট নয়, এটি জীবনরেখা এবং সম্ভাবনার প্রতীক।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলোও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার জেরুজালেমে বৈঠকের সময় নেতানিয়াহুকে রাফাহ খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান।

২০২৩ সালের অক্টোবরের যুদ্ধ শুরুর আগে রাফাহই ছিল গাজাবাসীর বাইরের বিশ্বের সঙ্গে একমাত্র সংযোগপথ এবং ২২ লাখ মানুষের এই ভূখণ্ডে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা প্রবেশের প্রধান দরজা, যেখানে ২০০৭ সাল থেকে ইসরায়েলি অবরোধ চলছে।

শেষ জিম্মি

হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জেদিন আল-কাসাম ব্রিগেডসের মুখপাত্র আবু ওবাইদা রোববার বলেন, আমাদের কাছে থাকা জিম্মির মরদেহের অবস্থানসংক্রান্ত সব তথ্য আমরা মধ্যস্থতাকারীদের দিয়েছি। তিনি জানান, আল-কাসাম ব্রিগেডসের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ইসরায়েল বর্তমানে একটি স্থানে তল্লাশি চালাচ্ছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সময় ইসরায়েলে অপহৃত ২৫১ জনের মধ্যে র‌্যান গিভলি ছাড়া বাকি সবাইকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি পুলিশের অভিজাত ইয়াসাম ইউনিটের এই নন-কমিশন্ড অফিসার হামলার দিনই নিহত হন ও তার মরদেহ গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে হামাসের সব জিম্মি হস্তান্তরের কথা ছিল।

গিভলির পরিবার পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ, যার মধ্যে রাফাহ পুনরায় খোলার বিষয়টি রয়েছে, তা কার্যকরের আগে তার মরদেহ ফেরত পাওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছে। রোববার এক বিবৃতিতে তার পরিবার জানায়, সবার আগে র‌্যানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার মধ্য দিয়ে গাজা যুদ্ধের সূচনা হয়। ওই হামলায় সরকারি ইসরায়েলি হিসাব অনুযায়ী ১ হাজার ২২১ জন নিহত হন। এর জবাবে ইসরায়েলের পাল্টা হামলায় গাজার বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অঞ্চলটি আগেও একাধিক সংঘর্ষ ও ২০০৭ সাল থেকে আরোপিত ইসরায়েলি অবরোধের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল।

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে দুই বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে গাজায় অন্তত ৭১ হাজার ৬৫৭ জন নিহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। জাতিসংঘ এসব পরিসংখ্যানকে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করে।

সূত্র: এএফপি

এসএএইচ