ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্রদল। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন চত্বরে সাজিদ হত্যার বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি জানান তারা। এছাড়া প্রক্টরকে অপসারণ না করা হলে বুধবার (২৭ জানুয়ারি) ভিসি কার্যালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
কর্মসূচি পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক শিক্ষার্থী বুরহান উদ্দিনের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, সাজিদ হত্যার পর সিআইডি ও বিভিন্ন তদন্ত কমিটি কাজ করছে বলা হলেও আজ পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। প্রশাসনের গঠিত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির রিপোর্টেও বেশ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার কথা উঠে এসেছে, কিন্তু কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। প্রশাসনের ব্যর্থতার দায় প্রক্টরসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকেই নিতে হবে।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সব কার্যক্রম সচল থাকলেও সাজিদের হত্যার বিচার হচ্ছে না। ১৫ জুলাই আইসিটি সেল থেকে সিসিটিভির নিয়ন্ত্রণ প্রক্টর অফিসে নেওয়া হয়েছিল কেন- এর জবাব প্রশাসনকে দিতে হবে। সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব হয়ে যাওয়া, রুমের চাবি সাদ্দাম হোসেন হলের কোনো এক ছাত্রের কাছে থাকার কারণ এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। এই নয়-ছয় প্রশাসন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আর চলতে দেওয়া হবে না।
তাদের দাবি, বুধবার বিকেল চারটার মধ্যে সব ব্যর্থতার দায় শিকার করে প্রক্টর ড. শাহীনুজ্জামানকে পদত্যাগ করতে হবে। যদি তিনি পদত্যাগ না করেন তাহলে প্রশাসন কর্তৃক তাকে অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় বুধবার বেলা এগারোটা আমরা ভিসি কার্যালয় ঘেরাও করবো।
প্রক্টর প্রফেসর ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, হলের ফুটেজ গায়েবের দায়ভার হল প্রভোস্টের। সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণের জন্য আমাদেরকে শুধু চিঠি ইস্যু করে কিন্তু নিয়ন্ত্রণ দেয়নি। এখন পর্যন্ত আইসিটি সেল তা আমাদের বুঝে দেয়নি। সাজিদ ইস্যুতে সিআইডিকে আমার দপ্তর থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হচ্ছে। যতদিন সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে করছি ততদিন থাকব। শিক্ষার্থীরা যেদিন চাইবে না এক মুহূর্ত আমি এ পদে থাকবো না।
ইরফান উল্লাহ/এনএইচআর/এমএস