মন্ত্রীদের জন্য ৯ হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট নির্মাণ-সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাব সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে দেখেননি বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি তো এই প্রস্তাব দেখিনি। এটা কোথা থেকে আসছে, আমি বুঝতে পারলাম না। পারচেজ (ক্রয়) কমিটিতে এমন কোনো প্রস্তাব আমরা দেখিনি।’
গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে- সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন কথা বলা হলে ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘এটা তো একটা পর্যায়ে আসতে হবে। ওরা হয়তো একটা প্রস্তাব প্রস্তুত করতেছে, কিন্তু এটার জন্য তো আমাদের ....করলে হবে না। সরকারের পর্যায় থেকে এত বড় অর্থ ব্যয়, এটা তো পারচেজ কমিটিতে আসতে হবে। আমি তো প্রতিটি পারচেজ কমিটিতে ছিলাম, আমার তো মনে পড়ে না এ ধরনের কোনো প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে।’
গণভোটের প্রচারের ব্যয়গণভোট ও সংসদ নির্বাচন একসঙ্গে হচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারের জন্য কত টাকা বরাদ্দ রেখেছে? এমন প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা বলেন, ‘ব্যয় কত হচ্ছে এটা আমি বলতে পারবো না। বেশির ভাগ ব্যয় করা হচ্ছে সরকার যে বাজেট দিয়েছে, সেখান থেকে। কিছু বিশেষ বরাদ্দ আছে, সেটা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের। কিংবা তথ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য কিছু বিশেষ বরাদ্দ থাকতে পারে।’
ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনসোমবার সরকার থেকে ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন স্থাপন করার কথা বলা হয়েছে। এর আগে পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান কেনার কথা বলা হয়েছিল। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা (জোন স্থাপন) পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিষয় না। আপনারা জানেন আমাদের তো একটা ডিফেন্স ব্যবস্থা আছে, তাই না। আমাদের নৌবাহিনী আছে, বিমানবাহিনী আছে, আর্মি আছে। আমরা তো কিনি, আমরা তো ডিফেন্স সরঞ্জাম প্রতিনিয়ত কিনতেছি। তো এখন পার্থক্যটা হচ্ছে যে এখানে উৎপাদন হবে। এই জন্যই একটা জমি মাত্র বরাদ্দ করা হয়েছে। অন্য কিছু না। এখন এটা (জোনে উৎপাদিত সরঞ্জামের জিনিস) কি পাকিস্তান থেকে আসবেন না কি কোথা থেকে আসবে, এরকম কোনো কিছু সুনির্দিষ্ট হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল বেজার (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ) বৈঠকে তো আমি নিজেই ছিলাম। ওরা শুধু একটা ভূমি বরাদ্দ করছে ডিফেন্স সরঞ্জাম উৎপাদনের জন্য। এটাতে ডিফেন্স ব্যয় কমাবে। কারণ স্থানীয় একটা মূল্য যোগ হবে। আপনি যেটা বাইরে থেকে কিনতেন, সেটা কিছুটা সেমি ম্যানুফ্যাকচার হবে।’
তুরস্ক থেকে যুদ্ধবিমান এবং চীন থেকে ড্রোন কেনার বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘না এগুলো কোনো স্পেসিফিক হয়নি। শুধু আমি যেটুকু জানি সেটুকু বলবো। আমি যেটা জানি না সেটা সম্পর্কে আপনাদের কথা বলতে চাই না। আমি বেজার ওই মিটিংয়ে ছিলাম। সেখানে শুধু একটা জমি বরাদ্দ করা হয়েছে, যেখানে ডিফেন্স সরঞ্জাম উৎপাদন হবে, এটাই।’
বিশ্বকাপ ক্রিকেটএ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকার তো স্পষ্ট, আমরা তো বলি নাই যে খেলবো না। আমরা তো বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী। বলছি আমাদের একটা বিকল্প ভেন্যু দাও। ভারত তো কত বছর পাকিস্তানে গিয়ে খেলে নাই, কত বছর বিভিন্ন দেশে গিয়ে খেলে নাই। তাদের বিকল্প ভেন্যু দেওয়া হয়েছে। আমরা তো এমন কিছুই চাই নাই যেটা একটা আজগুবি কিংবা কোথা থেকে একটা উদ্ভাবন, এমন কিছু তো না।’
ক্রিকেট নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘টানাপোড়েন হচ্ছে না, এটা আমি বলবো না। কিন্তু আমরা একটা নীতিগত, একটা মুখ্য অবস্থান নিয়েছি। মোস্তাফিজকে কেন বাদ দেওয়া হলো? কারণ ওখানকার বিজেপি এবং শিবসেনা, ওরা বললো যে তাকে বাদ দিতে হবে। তো সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আমাদের খেলার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
এমএএস/একিউএফ