জাতীয়

দরপত্র ছাড়াই কেনা হবে র‍্যাবের ১০০ প্যাট্রল পিকআপ ও ৬০ মাইক্রোবাস

দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) জন্য ৩টি জিপ, ১০০টি প্যাট্রল পিকআপ এবং ৬০টি মাইক্রোবাস (এসি) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ‘র‍্যাব ফোর্সেস এর আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় রাষ্ট্র মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে এসব গাড়ি কেনা হবে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সাংবাদিকদের বলেন, র‍্যাবের জন্য ৩টি জিপ, ১০০টি প্যাট্রল পিকআপ এবং ৬০টি মাইক্রোবাস উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির পরিবর্তে সরাসরি ক্রং পদ্ধতিতে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কেন সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি বলেন, আমরা সরকারের টাকা সরকারের ঘরে রাখছি। প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশের প্রথম গাড়ি প্রতিষ্ঠান এবং এটি সরকারি মালিকানাধিন। এ জন্য আমরা এখান থেকে কিনতে চাই। 

নির্বাচনের আগে এই গাড়িগুলো আনা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে নয়, আজকে শুধু অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখন প্রক্রিয়া করতে যে সময় আছে তাতে আরও অনেক পরে আসবে। এগুলো পর্যায়ক্রমে আসবে, এখন তো কেবল আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হলো। তারপর আমরা তাদের অর্ডার করব। সেগুলো তারা অর্ডার নিয়ে জাপান থেকে যন্ত্রাংশ আনাবে, এই টাকা দিয়েই আনাবে।

এদিকে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ‘র‍্যাব ফোর্সেস এর আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় ৩টি জিপ, ১০০টি প্যাট্রল পিকআপ এবং ৬০টি মাইক্রোবাস (এসি) সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার প্রস্তাব নিয়ে আসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ‍উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি তা নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।

জানা গেছে, প্রকল্পটি একনেক থেকে অনুমোদিত হয় ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। যানবাহন সমস্যা দূর করার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কার্যকরী ও যুগোপযোগী ভূমিকা পালনে র‍্যাব ফোর্সেসের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জরুরিভিত্তিতে ৩টি জিপ, ১০০টি প্যাট্রল পিকআপ এবং ৬০টি মাইক্রোবাস (এসি) ক্রয় করা প্রয়োজন। কিন্তু ওটিএম (উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি) পদ্ধতিতে ক্রয় প্রক্রিয়া সময় সাপেক্ষ। তাই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং র‍্যাবের আভিযানিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল রাখার লক্ষ্যে পিপিএ-২০০৬ এর ৬৮ অনুসারে রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে র‍্যাবের জন্য এসব যানবাহন কেনা হবে। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে রাষ্ট্র মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদনের প্রস্তাব দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি তা অনুমোদন করে।

এদিকে বৈঠকে ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে মাল্টিমোডাল হাব নির্মাণ সংক্রান্ত ‘কনস্ট্রাকশন অব মাল্টিমোডাল হাব অ্যাট ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন’ শীর্ষক প্রকল্পটি পিপিপি তালিকা থেকে প্রত্যাহারের প্রস্তাব নিয়ে আসে রেলপথ মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।

জানা গেছে, রেলওয়ে যাত্রী সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে গৃহীত ‘কনস্ট্রাকশন অব মাল্টিমোডাল হাব অ্যাট ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন’ শীর্ষক প্রকল্পটি পিপিপি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের প্রস্তাব ২০১৮ সালের ১৭ অক্টোবর সিসিইএ সভায় নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চিহ্নিত জায়গাটি প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য টিএ নিয়োগ করা হয়নি। তাছাড়া, প্রকল্পটির কার্যক্রম চলমান না থাকায় পিপিপি তালিকা থেকে প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ভোলা থেকে এলএনজি আকারে গ্যাস নদীপথে পরিবহন করে সরাসরি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির অধীক্ষেত্র শিল্প প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ সংক্রান্ত কার্যক্রম বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়নের একটি প্রস্তাব নিয়ে আছে। তবে বৈঠক থেকে প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

পাশাপাশি দেশে ক্ষতিগ্রস্ত আলু চাষিদের সহায়তার জন্য ভর্তুকি প্রদান সংক্রান্ত কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাবও বৈঠক থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

এমএএস/এমএমকে