নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে খেলতে যেতে রাজি হয়নি বাংলাদেশ। বাংলাদেশ চেয়েছিল শ্রীলঙ্কায় খেলতে। কিন্তু আইসিসি তাতে রাজি হয়নি। বরং বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভূক্ত করেছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এর মধ্যে আরেক খবর, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগে ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে নিপাহ ভাইরাস। গ্রুপপর্বে বাংলাদেশের চার ম্যাচের তিনটি ছিল পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়। পশ্চিমবঙ্গেই নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেশি।
চলতি মাসের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গে পাঁচজন স্বাস্থ্যকর্মী নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। সংক্রমিতদের সংস্পর্শে আসা অন্তত ১১০ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এরই মধ্যে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি দেশ তাদের বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে যাত্রী স্ক্রিনিং জোরদার করেছে।
এখনো ভারতের বাইরে কোনো দেশে নিপাহ সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সতর্কতা হিসেবে বিভিন্ন দেশ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
রোববার থাইল্যান্ড ব্যাংকক ও ফুকেটের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা ফ্লাইটের যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করে। এসব যাত্রীকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঘোষণা দিতে বলা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশটির পার্ক ও বন্যপ্রাণী বিভাগ পর্যটন এলাকায় বাড়তি নজরদারি ও স্ক্রিনিং চালু করেছে।
নেপালও কাঠমান্ডু বিমানবন্দর এবং ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত বিভিন্ন স্থল সীমান্তে আগত যাত্রীদের স্ক্রিনিং শুরু করেছে।
এদিকে তাইওয়ানের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিপাহ ভাইরাসকে ‘ক্যাটাগরি ফাইভ’ রোগ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে। দেশটির শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী, ক্যাটাগরি ফাইভের রোগগুলো বিরল বা নতুন ধরনের সংক্রমণ, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে এবং তাৎক্ষণিক রিপোর্টিং ও বিশেষ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়।
এমতাবস্থায় বিদেশি দলগুলো কি ভারতে খেলতে আসবে? যেখানে অন্য দেশ ভারতীয় নাগরিকদের নিজেদের দেশে ঢোকার ক্ষেত্রে সতর্কতা আরোপ করছে।সেখানে অন্য দেশের ক্রিকেটাররা ভারতে খেলতে আসলে, তাদেরও ঝুঁকি তো নিশ্চয়ই রয়েছে।
যেখানে নিপাহ ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক বেশি ছড়াচ্ছে, সেই পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা শহরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম দিনই খেলা আছে। ইডেন গার্ডেনসে ওই ম্যাচে খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং বাংলাদেশের বদলে সুযোগ পাওয়া স্কটল্যান্ড। সবমিলিয়ে বিশ্বকাপের ছয়টি ম্যাচ আছে কলকাতায়।
৭ ফেব্রুয়ারি শুরু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এখনও দেড় সপ্তাহের মতো সময় বাকি। এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে কেরালা রাজ্যও নিপাহ ভাইরাসের জন্য এন্ডেমিক বা স্থায়ী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। এভাবে ভারতের অন্য রাজ্যগুলোতেও নিপাহ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বকাপ আয়োজনই হুমকির মুখে পড়বে।
এমএমআর