বর্তমান বৈশ্বিক উৎপাদনশীলতা ও সৃজনশীলতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। একসময় যেখানে এআই টুল কেবল লেখা বা ছবি তৈরিতে সীমাবদ্ধ ছিল, সেখানে এখন এসব টুল একীভূত প্ল্যাটফর্মে রূপ নিয়ে লেখালেখি, কোডিং, ডিজাইন, অডিও-ভিডিও প্রোডাকশন, গবেষণা ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালে জেনারেটিভ এআই পেশাগত কর্মপরিবেশে মানবশ্রমের চাপ কমিয়ে দক্ষতা বাড়াচ্ছে। একইসঙ্গে কম ত্রুটিতে উচ্চমানের কনটেন্ট ও সমাধান নিশ্চিত করছে এসব এআই টুল।
এখন ব্যবহৃত শীর্ষ ২০টি এআই টুল নিয়ে চলুন জেনে আসি-
১. ওপেনএআই চ্যাটজিপিটিবহুমুখী সক্ষমতার কারণে এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয় এআই টুলগুলোর একটি। লেখা, আইডিয়া তৈরি, কোডিং, ডিবাগিং ও দীর্ঘ আলোচনায় প্রাসঙ্গিক উত্তর দিতে দক্ষ।
২. গুগল জেমিনি অ্যাডভান্সডগবেষণা ও এন্টারপ্রাইজ পর্যায়ের কাজের জন্য শক্তিশালী মাল্টিমডাল এআই। টেক্সট, ছবি ও ডেটা বিশ্লেষণে পারদর্শী এবং গুগলের অন্যান্য টুলের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে।
৩. মাইক্রোসফট কোপাইলটমাইক্রোসফট অফিস, টিমস ও উইন্ডোজে সংযুক্ত এআই সহকারী। রিপোর্ট, ই-মেইল, প্রেজেন্টেশন ও ডাটা বিশ্লেষণকে আরও সহজ করে।
৪. মিডজার্নি ভি৭উচ্চমানের ও বাস্তবসম্মত ছবি তৈরিতে শীর্ষস্থানীয়। ডিজাইনার, শিল্পী ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়।
৫. অ্যাডব ফায়ারফ্লাই৩ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর ও প্রিমিয়ার প্রোতে সংযুক্ত এআই ডিজাইন টুল। ব্র্যান্ড-সেফ ও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারযোগ্য কনটেন্ট তৈরিতে গুরুত্ব দেয়।
৬. ক্লাউড ৩.৫পেশাদার লেখালেখি ও ডকুমেন্টেশনের জন্য নির্ভরযোগ্য। দীর্ঘ ও সংবেদনশীল লেখায় যুক্তি ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম।
৭. রানওয়ে জেন-৩ভিডিও তৈরি ও অ্যানিমেশনের জন্য উন্নত এআই প্ল্যাটফর্ম। দ্রুত ও সৃজনশীল ভিডিও প্রোডাকশনে কার্যকর।
৮. সিনথেসিয়া স্টুডিওএআই অ্যাভাটার ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করার প্ল্যাটফর্ম। কর্পোরেট ট্রেনিং, শিক্ষা ও মার্কেটিংয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে।
৯. জ্যাসপার এআইমার্কেটিং ও বিজ্ঞাপনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি। এসইও কনটেন্ট, বিজ্ঞাপন ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট তৈরিতে সহায়ক।
১০. পারপ্লেক্সিটি এআই প্রোতথ্যসূত্রভিত্তিক উত্তর দেওয়ার কারণে গবেষক ও সাংবাদিকদের কাছে জনপ্রিয়।
১১. পারপ্লেক্সিটি এআই প্রোমানুষের মতো স্বর তৈরি করতে সক্ষম শীর্ষ ভয়েস জেনারেশন প্ল্যাটফর্ম। অডিওবুক ও বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত হচ্ছে।
১২. ক্যানভা এআই সুইটসহজ ডিজাইন অটোমেশনের মাধ্যমে প্রেজেন্টেশন ও মার্কেটিং ম্যাটেরিয়াল তৈরিতে সহায়ক।
১৩. নোশন এআইডকুমেন্টেশন, নোট সংক্ষেপণ ও প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টে কার্যকর এআই সহকারী।
১৪. রেপ্লিট এআইরিয়েল-টাইম কোডিং, ডিবাগিং ও অ্যাপ ডেভেলপমেন্টে সহায়ক প্ল্যাটফর্ম।
১৫. ডেসক্রিপ্ট এআই স্টুডিওটেক্সটের মাধ্যমে অডিও ও ভিডিও সম্পাদনার সুবিধা দেয়।
১৬. সোরা বাই ওপেনএআইটেক্সট থেকে দীর্ঘ ও বাস্তবসম্মত ভিডিও তৈরির সক্ষমতা নিয়ে আলোচিত এআই টুল।
১৭. পিকা ২.০দ্রুত ও সহজ ভিডিও কনটেন্ট তৈরির জন্য জনপ্রিয়।
১৮. টোম এআইগল্পভিত্তিক প্রেজেন্টেশন ও পিচ ডেক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
১৯. ডিউরেবল এআই স্বল্প সময়ের মধ্যে ব্যবসার জন্য ওয়েবসাইট ও অটোমেশন সল্যুশন প্রদান করে।
২০. লিওনার্দো এআই ২০২৬ডিজাইনার ও গেম ডেভেলপারদের জন্য চরিত্র, টেক্সচার ও পরিবেশ তৈরিতে কার্যকর।
এসব জেনারেটিভ এআই টুল ২০২৬ সালে সৃজনশীলতা ও ব্যবসায়িক দক্ষতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ভবিষ্যতে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে-বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুনসোশ্যাল মিডিয়া নজর রাখছে আপনার ব্যক্তিগত জীবনেওএআই দিয়ে বানানো নাকি আসল ছবি চিনবেন যেভাবে
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
শাহজালাল/কেএসকে