আন্তর্জাতিক

ঘুসকাণ্ডে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডির কারাদণ্ড

ঘুস গ্রহণের মামলায় দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কন হিকে এক বছর আট মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইয়োনহ্যাপের বরাতে জানা গেছে, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালত কিমকে শেয়ারমূল্য কারসাজি ও রাজনৈতিক তহবিল আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ থেকে খালাস দিলেও, ইউনিফিকেশন চার্চের কাছ থেকে ঘুস গ্রহণের অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।

কিম ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়লের স্ত্রী। তার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী, রাজনীতিক ও ইউনিফিকেশন চার্চের কাছ থেকে অন্তত দুই লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের উপহার ও অর্থ গ্রহণের অভিযোগ ছিল।

গত ডিসেম্বর প্রসিকিউটররা বলেন, কিম আইনের ঊর্ধ্বে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং ধর্মীয় গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশ করে সংবিধাননির্ধারিত ধর্ম ও রাষ্ট্রের পৃথকীকরণ নীতিকে দুর্বল করেছিলেন।

প্রসিকিউটর মিন জুং-কি অভিযোগ করেন, কিমের ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব অভিযোগ চরমভাবে অন্যায়। গত মাসে শেষ সাক্ষ্যে তিনি নিজের নির্দোষতার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

একই সঙ্গে তিনি ক্ষমা চেয়ে বলেন, গুরুত্বহীন একজন মানুষ হয়েও আমি ঝামেলা সৃষ্টি করেছি—এর জন্য দুঃখিত।

কিমের স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়েল গত বছর ক্ষমতাচ্যুত হন এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারির ঘটনায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। পৃথক আরেক মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিও রয়েছে।

২০২৩ সালে গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিওতে কিমকে ২ হাজার ২০০ ডলারের একটি বিলাসবহুল ব্যাগ গ্রহণ করতে দেখা যায়। এই ঘটনা ‘ডিওর ব্যাগ কেলেঙ্কারি’ নামে পরিচিতি পায় এবং তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইউন-এর জনপ্রিয়তা আরও কমিয়ে দেয়।

এই কেলেঙ্কারি ২০২৪ সালের এপ্রিলের সাধারণ নির্বাচনে ইউন-এর দলের বড় ধরনের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।

কিমের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবিতে বিরোধী দলসমর্থিত তিনটি বিল ভেটো করেছিলেন ইউন, যার সর্বশেষটি ছিল ২০২৪ সালের নভেম্বরে। এক সপ্তাহ পরই তিনি সামরিক আইন ঘোষণা করেন।

সূত্র: আল-জাজিরা

এমএসএম