আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ভোট নিশ্চিত করতে রাজধানী ও ঢাকার আশেপাশের তিন জেলায় ৩৮ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন। এছাড়া যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম (আরএটি), কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) এবং প্রয়োজনে হেলিকপ্টার প্রস্তুত থাকবে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি ৫ ব্যাটালিয়নের ট্রেনিং গ্রাউন্ডে নির্বাচনকালিন মহড়া শেষে এসব তথ্য জানান বিজিবি ৫ ঢাকা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান।
তিনি বলেন, ঢাকা সেক্টরের আওতাধীন ঢাকা ব্যাটালিয়ন (৫ বিজিবি) এলাকায় মোট ৩৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পাঁচটি সংসদীয় আসনে ১১ প্লাটুন, সাভার ও ধামরাইয়ের দুইটি আসনে ৬ প্লাটুন, ফরিদপুরের চারটি আসনে ১৩ প্লাটুন এবং মানিকগঞ্জের তিনটি আসনে ৮ প্লাটুন দায়িত্ব পালন করবে।
এসব এলাকায় বিজিবির সদস্যরা ১২টি বেইজ ক্যাম্প থেকে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি আরও বলেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের সব নির্দেশনা অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করবেন, যাতে সব প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পায় এবং ভোটাররা ভয় ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান বলেন, বিজিবি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, সরকার, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।
বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিজিবির বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি। নির্বাচনের আগে ও চলাকালে রাজধানীতে প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনকালীন বিশেষ মোতায়েন কার্যক্রম শুরু হবে। বর্তমানে বিজিবি ৫ এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বিজিবির এ কর্মকর্তা আরও বলেন, নির্বাচনকালীন যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম (আরএটি), কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) এবং প্রয়োজনে হেলিকপ্টার প্রস্তুত থাকবে।
নির্বাচনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে বডি-ওর্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস, মেটাল ডিটেক্টর, এপিসি ও আধুনিক সিগন্যাল সরঞ্জাম ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি নির্বাচন পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে ব্যাটালিয়ন সদরে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে বিজিবি ৫ এর অধিনায়ক বলেন, এবারের নির্বাচনে বিজিবির ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। প্রিজাইডিং অফিসার সহায়তা চাইলে বা কোনো কেন্দ্রে সহিংসতা, জাল ভোট কিংবা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিভিন্ন চেকপোস্টের মাধ্যমে আমাদের তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আমাদের স্ট্রাইকিং ফোর্সও কাজ করবে। আমাদের ডেপ্লয়মেন্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম এবং টহল আগে থেকেই চলমান রয়েছে। আগামীকাল কাল (২৯ জানুয়ারি) থেকে নির্বাচনকালীন মোতায়েন শুরু হবে।
জাল ভোট নিরসনে বিজিবির প্রচেষ্টা কি হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদি কোনো ভোটকেন্দ্রে এই ধরনের কার্যক্রম হয় সে ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রিসাইডিং অফিসার আমাদের জানাবেন এবং সেই ভোট কেন্দ্রের পরিস্থিতি যদি খারাপ দিকে যায় সেই অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেবো।
টিটি/এমআইএইচএস