ধর্ম

হজরত মুসার (আ.) ৪ দোয়া

মুসা (আ.) আল্লাহর একজন মর্যাদাবান নবী ও রাসুল। তিনি আল্লাহর নবী ইবরাহিম, ইসহাক ও ইয়াকুবের (আ.) বংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার বংশধারা হলো, মুসা ইবনে ইমরান ইবনে কাহেছ ইবনে আজের ইবনে লাভি ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইসহাক ইবনে ইবরাহিম। অর্থাৎ মুসা ছিলেন নবী ইবরাহিমের (আ.) ৮ম অধঃস্তন পুরুষ।

মুসা (আ.) মিসরে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মের আগে ফেরাউনের কাছে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল যে, বনি ইসরাইলে জন্মগ্রহণকারী এক ব্যক্তির হাতে তার রাজত্বের অবসান হবে। এ কারণে ফেরাউন বনি ইসরাইলের নবজাতক ছেলে শিশুদের হত্যা করে ফেলতো। কোরআনে ফেরাউনের এই ঘোরতর জুলুমের কথা উল্লেখ করে আল্লাহ তাআলা বলেন, স্মরণ কর, আমি যখন তোমাদেরকে ফেরাউন গোষ্ঠী থেকে মুক্তি দিয়েছিলাম, যারা তোমাদের ছেলে সন্তানদের হত্যা করে আর মেয়েদের জীবিত রেখে তোমাদেরকে মর্মান্তিক যাতনা দিত আর এতে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে ছিল মহাপরীক্ষা। (সুরা বাকারা: ৪৯)

নবী মুসার (আ.) জন্মের পর আল্লাহর নির্দেশে তার মা তাকে নদীতে ভাসিয়ে দেন। আল্লাহর ইচ্ছায় লাওয়ারিশ শিশু হিসেবে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ফেরাউনের রাজপ্রাসাদে। সেখানেই তিনি প্রতিপালিত হতে থাকেন। যৌবনে পদার্পণের পর মিশরের এক ব্যক্তি ভুলক্রমে তার হাতে নিহত হলে তিনি মাদায়েনে চলে যান। প্রায় দশ বছর পর তিনি যখন সস্ত্রীক মাদায়েন থেকে ফিরছিলেন তখন পবিত্র তুয়া উপত্যকায় আল্লাহ তাআলা তাকে নবুয়্যত দান করেন, মুজিজা দান করেন এবং ফেরাউনকে আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার নির্দেশ দেন।

ফেরাউন তার দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে, তার মুজিজাকে জাদু মনে করে এবং জাদুকরদের মাধ্যমে তার মোকাবেলা করার চেষ্টা করে। কিন্তু মুসার (আ.) মুজিজার সামনে সব জাদু ব্যর্থ হয়ে যায়। এরপরও ফেরাউন ইমান আনেনি। আল্লাহ তাআলা ফেরাউনকে আরও নিদর্শন দেখান। ফেরাউন ও তার অনুসারীরা বারবার আল্লাহ তাআলার শাস্তিতে আক্রান্ত হয়। তবুও হতভাগ্য ফেরাউন ইমান আনেনি। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা ফেরাউনকে লোহিত সাগরে ডুবিয়ে মারেন।

কোরআনে বহু জায়গায় আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তাআলা নবী মুসার (আ.) নাম উল্লেখ করেছেন, তার দ্বীন প্রচার ও সংগ্রামের ঘটনা বর্ণনা করেছেন। বিভিন্ন ঘটনায় আল্লাহর কাছে করা তার কিছু দোয়াও বর্ণনা করেছেন। এখানে আমরা কোরআন থেকে হজরত মুসার (আ.) ৪টি দোয়া তুলে ধরছি।

১. চিন্তা ও বাকশক্তি বৃদ্ধির দোয়া

 رَبِّ اشْرَحْ لِيْ صَدْرِيْ وَ يَسِّرْلِيْ أَمْرِيْ وَ احْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِيْ يَفْقَهُوْا قَوْلِيْ

উচ্চারণ: রব্বিশরাহলি সাদরী, ওয়া ইয়াসসিরলি আমরী, ওয়াহলুল উক্বদাতাম মিল লিসানী, ইয়াফক্বাহূ ক্বওলী।

অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দাও এবং আমার কাজ সহজ করে দাও। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দাও যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে। (সুরা ত্বহা: ২৫-২৮)

২. গুনাহ মাফের দোয়া

 رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي

উচ্চারণ: রাব্বি ইন্নী জালামতু নাফসী ফাগফিরলী।

অর্থ: হে আমার রব! আমি নিজের ওপর জুলুম করেছি। আমাকে ক্ষমা করে দিন। (সুরা কাসাস: ১৬)

৩. জুলুম থেকে মুক্তির দোয়া

رَبِّ نَجِّنِیۡ مِنَ الۡقَوۡمِ الظّٰلِمِیۡنَ

উচ্চারণ: রাব্বি নাজ্জিনী মিনাল ক্বাওমিজ জোয়ালিমীন।

অর্থ: হে আমার রব! আমাকে মুক্তি দিন অত্যাচারী সম্প্রদায় থেকে। (সুরা কাসাস: ২১)

৪. উত্তম রিজিক পাওয়ার দোয়া

رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِير

উচ্চারণ: রাব্বি ইন্নি লিমা আনজালতা ইলাইয়্যা মিন খাইরিন ফাকির।

অর্থ: হে আমার রব! আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ নাজিল করবেন, নিশ্চয় আমি তার মুখাপেক্ষী। (সুরা কাসাস: ২৪)

ওএফএফ