নবজাতক শিশুকে দেখলে মনে হতে পারে, সে তো পৃথিবীর কিছুই এখনো জানেনা, যেন সে একেবারেই নির্ভীক। কিন্তু গবেষণা বলছে - মানুষ পুরোপুরি ভয়হীন হয়ে জন্মায় না। মানুষের মধ্যে জন্মগতভাবে মূলত দুটি ভয় কাজ করে।
এই ভয়গুলো শেখানো লাগে না। এগুলো আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের ভেতরেই প্রোগ্রাম করা। ভয় দুটি হলো হঠাৎ জোরে শব্দের ভয় এবং উচ্চতার ভয়।
শিশুর সামনে হঠাৎ জোরে শব্দ হলে সে চমকে ওঠে - এটিকে বলা হয় স্টার্টল রিফ্লেক্স। আবার উচ্চ জায়গায় রাখলে বা মাটির থেকে দূরত্ব অনুভব করলে শিশুর শরীরে অস্বস্তির প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
১৯৬০ সালে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী এলিনর গিবসন ও রিচার্ড ওয়াক-এর বিখ্যাত ‘ভিজুয়াল ক্লিফ’ গবেষণায় দেখা যায়, হাঁটতে শেখার আগেই শিশুরা উচ্চতার বিপদ বুঝতে পারে।
নিউরোসায়েন্স বলছে, এসব প্রতিক্রিয়া আসে মস্তিষ্কের আদিম অংশ - ব্রেইনস্টেম ও প্রাথমিক সংবেদন ব্যবস্থার মাধ্যমে। অর্থাৎ ভাষা, চিন্তা বা অভিজ্ঞতার আগেই এই ভয় কাজ করে। এটি মূলত একটি জীবনরক্ষাকারী অ্যালার্ম সিস্টেম।
তাহলে প্রশ্ন জাগে যে, বাকি ভয়গুলো আসে কোথা থেকে?সাপ, অন্ধকার, ভূত, পরীক্ষা, লোকসমাজ - এসব ভয় কিন্তু জন্মগত নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ভয়গুলো আসে বড়দের আচরণ দেখে, বারবার সতর্কবার্তা শুনে, পারিবারিক উদ্বেগ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাস থেকে।
জন বি. ওয়াটসনের গবেষণা লিটল অ্যালবার্ট এক্সপেরিমেন্টে দেখানো হয়, শুধু অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিশুর মধ্যে কৃত্রিমভাবে ভয় তৈরি করা সম্ভব।
অভিভাবকদের করণীয় কী?এই গবেষণাগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো - যেহেতু বেশিরভাগ ভয় শেখা, তাই সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করাও সম্ভব। শিশু ভয় পেলে বড়দের আতঙ্কিত প্রতিক্রিয়া, অতিরিক্ত নিষেধ বা ভয় দেখানো তার উদ্বেগ বাড়াতে পারে। বরং শান্ত থাকা, আশ্বস্ত করা এবং সাহসী আচরণ দেখানো শিশুকে শেখায় - সব অজানা জিনিস বিপজ্জনক নয়।
মানুষ ভয় নিয়ে জন্মালেও, ভয় দিয়ে গড়া নয়। জন্মগত ভয় আমাদের রক্ষা করে, আর শেখা ভয় আমাদের গড়ে তোলে ভাল কিংবা খারাপভাবে। শিশুর জীবনে ভয় কীভাবে জায়গা নেবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে আমরা বড়রা কীভাবে তাকে পৃথিবীটা দেখাই তার ওপর।
সূত্র: জন বি. ওয়াটসন (১৯২০), এলিনর গিবসন ও রিচার্ড ওয়াক (১৯৬০), ডেভেলপমেন্টাল সাইকোলজি ও নিউরোসায়েন্স গবেষণা
এএমপি/জেআইএম