রাজধানীর পূর্বাচলের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র (ডিআইটিএফ) এ মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা ক্রেতা-দর্শনার্থীদের পদচারণায় জমে উঠেছে। বেলার শেষ সময়ে ক্রেতা-দর্শনার্থী বাড়ায় বিক্রি বাড়াতে আকর্ষণীয় অফার আর ছাড় দিচ্ছে সব প্যাভিলিয়ন ও স্টলে। মেলার দেশীয় সব পণ্যের স্টলগুলোতেও ক্রেতাদের ভিড় সবচেয়ে বেশি। এরমধ্যে অফার ও বিশেষ ছাড়ে ৯৯৯ টাকায় থ্রি-পিস কিনতে ক্রেতারা ভিড় করছেন এসব কাপড়ের প্যাভিলিয়ন ও স্টলগুলোতে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় থ্রি পিসের প্যাভিলিয়নে গিয়ে এমনই দৃশ্য চোখে পড়ে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড়ে যেন দম ফেলারও সুযোগ নেই বিক্রয়কর্মীদের।
জানা গেছে, মেলার থ্রি-পিস বিক্রেতারা বিভিন্ন অফার নিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে ‘গোল্ডেন অফার’ আখেরি অফারসহ বিভিন্ন নাম দিয়ে একাধিক প্রতিষ্ঠান মাত্র ৯৯৯ থেকে ১৫০০ টাকার তিন সেট থ্রি-পিস বিক্রি করছেন। কেউ ৯৯৯ টাকায় তিন সেট, কেউ ১৮০০ টাকায় তিন সেট, আবার কেউ ১০০০, ১২০০ ও ১৫০০ টাকায় তিন সেট থ্রি-পিস বিক্রি করছেন। তবে এ সমস্ত অফারের বাইরে দামি থ্রি-পিসও এখানে পাওয়া যাচ্ছে। রুচিশীল ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী মেলায় এ সমস্ত প্যাভিলিয়ন ও স্টলগুলোতে ১৫০০ টাকা থেকে শুরু করে দশ হাজার টাকা মূল্যের থ্রিপিসও পাওয়া যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মূল ভবনের উত্তর সাইডে একই সাড়িতে রয়েছে এমকে লেদার, রূপ ট্যাক্স, তাহান টেক্সটাইল ও প্রিয়া টেক্সটাইলসহ বেশ কয়েকটি স্টল। মাসব্যাপী মেলার শেষ সময়ে বিভিন্ন অফার ও ছাড় লুফে নিতে ক্রেতারা ভিড় করছেন কাপড়ের স্টলগুলোতে।
থ্রিপিস কিনতে আসা নাদিয়া আক্তার নামের এক ক্রেতা বলেন, মেলার শেষ পর্যায়ে ছাড় বেশি থাকে। তাই কেনাকাটা করতে এলাম। বিভিন্ন স্টলে ঘুরে দেখলাম নানা অফার ও ছাড় চলছে। অনেক দেখে শুনে ৯৯৯ টাকায় ৩ সেট থ্রি পিস কিনলাম।
আব্দুর রহিম নামের আরেক ক্রেতা বলেন, পরিবার নিয়ে চলে এলাম। শেষ সময় মেলায় সব জিনিসপত্রের দাম কম থাকে। সব স্টলগুলোতেই অফার আর ছাড় চলছে। প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস কিনেছি। ঘুরে ঘুরে দেখছি পছন্দ হলে আরও কিছু জিনিসপত্র কিনব।
থ্রি-পিস বিক্রয় কর্মী সোহান মিয়া বলেন, প্রিয়া টেক্সটাইল ল ব্রান্ডের থ্রিপিসগুলোর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। শেষ দিকে মেলায়ক্রেতার সংখ্যা অনেক বেড়েছে। অফার প্রাইজে ক্রেতারাও সাশ্রয়ী মূল্যে তাদের চাহিদা পণ্য কিনতে পারছেন।
শতরুপা স্টলের ইনচার্জ মনজুর ইসলাম বলেন, এ বছর মেলার প্রথম দিকে শীত আর ঘন কুয়াশা কারণে বিক্রিতে মন্দা ভাব ছিল। ছুটির দিনগুলোতে ভালো বিক্রি হয়েছে। তবে মেলার শেষের দিকে এসে আমরা ক্রেতাদের সাড়া পেয়েছি। এখন আমরা ক্রেতাদের যে কোনো পণ্যের ওপর ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছি। অফার ও ছাড় পেয়ে ক্রেতারাও ঝুঁকছে। গোল্ডেন অফারে যে থ্রি-পিস বিক্রি করছি তার মান ভালো। ১২০০ টাকায় যে তিন সেট লোনের থ্রি-পিস দিচ্ছি, এই থ্রি-পিস অন্য জায়গার থেকে কিনতে গেলে এক পিসের দাম পড়বে ৫০০ টাকা। অফার ও ছাড় পেয়ে ক্রেতারা আসছেন। বিক্রি ভালো হচ্ছে।
মেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩২৭টি প্যাভিলিয়ন, স্টল, রেস্তোরাঁ, দেশীয় উৎপাদক-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট (খেজুরবাগান,খামারবাড়ি), নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বাণিজ্যমেলার উদ্দেশ্যে বিআরটিসির ২০০টির বেশি ডেডিকেটেড শাটল বাস চলছে।
নাজমুল হুদ/এনএইচআর/জেআইএম