নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো সহিংসতা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটলে তার দায় আওয়ামী লীগের ওপর বর্তাবে- সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে কোনো গন্ডগোল হলে তা হতে পারে তাদের দ্বারাই, যারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না বা নিতে পারছেন না।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা হবে এটা নিশ্চিত কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, না, আমরা মোটেই সে রকম নিশ্চিত নই। তবে আশঙ্কা আছে যে কোনো অপচেষ্টা হতে পারে। এটার প্রতিদিনের অগ্রগতির বিস্তারিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আরও ভালো বলতে পারবেন। তবে আমরা মনে করছি, কোনো বিপদ বা এ ধরনের সংঘাত সাধারণভাবে হওয়ার কথা নয়।
আরও পড়ুননির্বাচনের দিন ও আগে যে কোনো সহিংসতায় আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হবে ভোট-গণভোটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১৫০ কোটি টাকা, বেশি খরচ খোরাকি ভাতায়
তিনি বলেন, যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন, তারা প্রত্যেকেই তাদের নির্বাচনি কার্যক্রমে যথেষ্ট সংযমের পরিচয় দিচ্ছেন। কাজেই যদি কোনো গন্ডগোল হয়, তাহলে তা যারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না বা নিতে পারছেন না, তাদের দ্বারাই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ কারণেই কথাটা বলা হচ্ছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গত ২৫ জানুয়ারি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেয় দেশটি। এতে বিস্ময় ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশ সরকার। সেদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই বক্তব্যে বাংলাদেশের সরকার উৎখাত ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ভণ্ডুল করার উদ্দেশ্যে সহিংসতায় উসকানি দেওয়া হয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক বক্তব্যই প্রমাণ করে কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিন সংঘটিত যে কোনো সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায় সংশ্লিষ্ট সংগঠনের (আওয়ামী লীগ) ওপর বর্তাবে।
জেপিআই/কেএসআর