ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া ফয়সাল রুবেল আহমেদ আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে রিমান্ড শুনানিকালে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত যে ‘রুবেল’-এর কথা বলা হচ্ছে, তিনি সেই ব্যক্তি নন।
শুনানিতে ফয়সাল রুবেল বলেন, ‘হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত কামরুজ্জামান রুবেল আমি না। আমি একটি চাকরি করি, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমার বাসা আদাবরে ছিল। এই কারণেই হয়তো আমাকে ভুল করে ওই রুবেল মনে করা হয়েছে।’
তার বক্তব্য শোনার পর বিচারক মন্তব্য করেন, ‘আপনাকে ওই রুবেল হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি।’
এরপর শুনানি শেষে আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে দক্ষিণ কেরানিগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে গত ২১ জানুয়ারি রাতে সিআইডি পুলিশ ফয়সাল রুবেল আহমেদকে গ্রেফতার করে। পরদিন আদালত তাকে ছয় দিনের রিমান্ডে পাঠান। সেই রিমান্ড শেষ হলে বুধবার তাকে পুনরায় আদালতে হাজির করে তদন্ত কর্মকর্তা আরও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে সিআইডির ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা বলেন, ছয় দিনের রিমান্ডে আসামির কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আরও সময় প্রয়োজন। সে কারণেই অতিরিক্ত রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
এদিন আদালতে ফয়সাল রুবেলের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
মামলার নথি অনুযায়ী, ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে শরিফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করা হয়। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
১৯ ডিসেম্বর হাদির মরদেহ দেশে আনা হয়। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধের পাশে শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ দাফন করা হয়।
এই ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর রাতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। ওসমান হাদি মৃত্যুবরণ করলে যা হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়া হয়।
এমডিএএ/এমআইএইচএস/