‘কোনো দিন চাঁদা নেবো না, আর কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেবো না’ বলে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান)।
তিনি বলেন, জনগণকে আমার কাছে আসতে হবে না। আমি জনগণের কাছে যাবো। তিন অথবা ছয় মাস অন্তর আমি নিজেকে জনগণের সামনে পেশ করবো। বরাদ্দের হিসাব দেবো। সেই অনুষ্ঠানের নাম হবে- জনতার মুখোমুখি ব্যারিস্টার আরমান। সেটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সেখানে যে কেউ যে কোনো প্রশ্ন করতে পারবে। আমি উত্তর দিতে বাধ্য থাকবো।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা–১৪ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অংশগ্রহণে নির্বাচনি ইশতেহার, আচরণবিধি প্রতিপালন এবং সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিতকরণ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।
সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভা মিরপুর কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংশ্লিষ্ট আসনের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা উপস্থিত থেকে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন এবং অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে পারস্পরিক সহযোগিতার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ব্যারিস্টার আরমান বলেন, ঢাকা-১৪ আসনের সবচেয়ে নিগৃহীত কাউন্দিয়া ও বনগাঁও। অবিলম্বে সেখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ হতেই হবে। সেখানে ব্রিজ হলে কলকারখানা গড়ে উঠবে। সেখানকার অন্যতম প্রয়োজন- একটি হাসপাতাল। নির্বাচিত হলে কাউন্দিয়ায় একটি সরকারি হাসপাতাল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেব ইনশাআল্লাহ।
জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, আমাদের অন্যতম প্রাণের জায়গা তরুণরা। তাদের প্রাণের জায়গা এই বাঙলা কলেজ। এটিকে অন্য কলেজের সঙ্গে মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় নয়, স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার জন্য কাজ করবো, ইনশাআল্লাহ। আমাদের ধর্মীয় অনুভূতির জায়গা শাহ আলী মাজার। এখানে সারাদেশ থেকে মানুষের যাতায়াতে নিরাপদ ও মানোন্নয়নের জন্য কাজ করবো। চিড়িয়াখানার কাছের হাসপাতালটির সঙ্গে সরকারি উদ্যোগে মেডিকেল কলেজ করার উদ্যোগ নেবো।
তিনি বলেন, সবাইকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমি এখন পর্যন্ত কোনো চাঁদা গ্রহণ করিনি। ওয়াদা করছি, যে কয়দিন জীবিত আছি, ইনশাআল্লাহ কোনো দিন কারও কাছ থেকে চাঁদা নেবো না। আর কাউকে এই ঢাকা-১৪ তে চাঁদাবাজি করতে দেবো না। আমরা পাহারাদার নামে অ্যাপস করবো। সেখানে নিজের নাম ও পরিচয় গোপন রেখে চাঁদাবাজির ঘটনার ভিডিওসহ আমাদের অবহিত করবেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমরা ব্যবস্থা নেবো। জুলাই সনদ স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করবো।
এতে বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিকসহ (সাজু) বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা অংশ নেন।
পরে ব্যারিস্টার আরমান বাঙলা কলেজের সামনে থেকে নির্বাচনি মিছিল করেন। বিকেলে আমিনবাজার এলাকায় ভোটারযোগ করেন।
এসইউজে/বিএ