আন্তর্জাতিক

কেউ অপরাধ করলে শাস্তি পেতেই হবে: তারেক রহমান

দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসন শেষে দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান। মাতৃভূমিতে পা রেখেই রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এরই মধ্যে পুরোদমে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন। ১৭ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার দেশে আদর্শ নেতা হওয়ার জন্য যে বজ্রকণ্ঠ প্রয়োজন তেমনটা না থাকলেও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনে তিনি বদ্ধপরিকর।

প্রায় এক দশক ধরে স্থানীয় মিডিয়ায় তারেক রহমানের বক্তৃতা নিষিদ্ধ করেছিল স্বৈরাচারী আওয়ামীলীগ সরকার। দীর্ঘ সময় পর দেশে ফেরার পর নিজের বাড়ির বাগানে টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানান, তার শরীর এখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিচ্ছে।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, আমি আসলে কথা বলায় খুব একটা পারদর্শী নই। কিন্তু যদি আপনি আমাকে কিছু করতে বলেন, আমি সেটা যথাসাধ্য চেষ্টা করি। তার এমন কথা থেকে বোঝা যায় তিনি আসলে কথায় নন কাজকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।

গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে পৌঁছান তারেক রহমান। ঢাকার বিমানবন্দরে রাতভর অপেক্ষারত লাখ লাখ সমর্থক তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি দেশে ফেরার মাত্র পাঁচদিন পরই তার মা বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘ অসুস্থতার পর মারা যান। মায়ের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, আমার হৃদয়টা ভীষণ ভারী হয়ে আছে।

অশ্রুচোখে তিনি বলেন, কিন্তু তার কাছ থেকে আমি যে শিক্ষা পেয়েছি তা হলো আপনার ওপর যদি কোনো দায়িত্ব এসে পড়ে, তাহলে সেটা আপনাকে পালন করতেই হবে।

প্রতিবেদনে শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচারী উল্লেখ করে তার পতনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তর, ছাত্র আন্দোলন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং ইসলামপন্থি রাজনীতির উত্থান নিয়েও বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রচেষ্টা এখনো অসম্পূর্ণ এবং নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ কোন পথে যাবে সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

তারেক রহমান নিজেকে তুলনামূলকভাবে নরম ও শ্রোতা-মনস্ক নেতা হিসেবে উপস্থাপন করছেন। তিনি বলেন, রাস্তায় মানুষ যেন নিরাপদ থাকে, ব্যবসা করতে পারে—এটাই তার প্রথম অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিরোধিতা করে বলেন, আজ কাউকে নিষিদ্ধ করলে কাল তাকেও নিষিদ্ধ করা হতে পারে। তিনি বলেন, কেউ যদি অপরাধ করে, এই দেশে নিয়ম আছে, আইন আছে। তাই অপরাধ করলে শাস্তি অবশ্যই পেতে হবে।

টিটিএন