লাইফস্টাইল

আপনার আলমারি কি পরিবেশের শত্রু?

নতুন জামা দেখলেই কেন যেন কিনতে মন চায়। দাম কম, ট্রেন্ডি ডিজাইন — এক–দুবার পরলেই আবার নতুন কালেকশন। এটাই ফাস্ট ফ্যাশনের মূল আকর্ষণ। কিন্তু এই ‘দ্রুত’ ফ্যাশনের বড় দামটা দিতে হয় পরিবেশকে। তবে এ বিষয়ে আমরা খুব কমই জানি।

পোশাক শিল্প আর কার্বনের গল্প

বিশ্বজুড়ে পোশাক শিল্প এখন একটি অন্যতম বড় কার্বন নিঃসরণকারী খাত। একটি সাধারণ টি-শার্ট বানাতে লাগে হাজার হাজার লিটার পানি, আর জিন্সের ক্ষেত্রে তো সেই পরিমাণ আরও বেশি। রং করা, ধোয়া, পরিবহন - প্রতিটি ধাপেই তৈরি হয় দূষণ। ফাস্ট ফ্যাশনের সমস্যা হলো, এই পোশাকগুলো টেকে কম, ফেলে দেওয়াও হয় দ্রুত। ফলে পাহাড়সম কাপড়ের বর্জ্য জমে, যা পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করে। তাহলে কী করবেন?

আজ (২৯ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক কার্বন নির্গমন হ্রাস দিবসে জেনে নিন কীভাবে আপনার ফ্যাশন পরিবেশের কাজে আসতে পারে।

১. টেকসই পোশাক

টেকসই বা সাসটেইনেবল ফ্যাশন মানে শুধু দামি বা একঘেয়ে পোশাক নয়। এর মানে হলো - যেসব পোশাক পরিবেশের ক্ষতি কম করে তৈরি হয়, দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায় এবং প্রয়োজনে মেরামত করে আবার পরা যায়।

২. পুরনোতেই নতুনত্ব

ছেঁড়া হাতা, ঢিলা সেলাই বা ফিকে রং - এসব কারণেই কি পোশাক ফেলে দেবেন? একটু সেলাই, একটু ডিজাইন বদল, কিংবা রং করলেই পুরনো কাপড় আবার নতুন হয়ে উঠতে পারে। রিপেয়ার ও রিইউজ শুধু টাকা বাঁচায় না, বাঁচায় পরিবেশও।

৩. সঠিক কাপড় বাছাই করুন

সব কাপড় এক রকম নয়। কটন, লিনেন বা রিসাইকেলড সুতায় তৈরি পোশাক তুলনামূলকভাবে পরিবেশবান্ধব। সিনথেটিক কাপড় ধোয়ার সময় মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়ায়, যা শেষ পর্যন্ত নদী ও সমুদ্রে গিয়ে পৌঁছায়। তাই কেনার সময় ট্যাগে চোখ বুলানোটাও জরুরি।

৪. টেকসই ব্র্যান্ডকে সমর্থন করুন

অনেক ব্র্যান্ড এখন পরিবেশবান্ধব উৎপাদন পদ্ধতি, ন্যায্য শ্রমনীতি ও দীর্ঘস্থায়ী ডিজাইনের দিকে যাচ্ছে। হয়তো দাম একটু বেশি, কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যবহার। কম কিনুন, ভালো কিনুন - এই দর্শনটাই টেকসই ফ্যাশনের মূল কথা।

ফ্যাশন মানে শুধু স্টাইল নয়, দায়িত্বও। আপনার আলমারির প্রতিটি সিদ্ধান্তই পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলে। আজ একটু সচেতন হলে, আগামী দিনের পৃথিবীটা হয়তো আরও বাসযোগ্য হবে।

সূত্র: জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি, এলেন ম্যাকআর্থার ফাউন্ডেশন, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম, ফ্যাশন রেভোলিউশন, নেচার ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নাল

এএমপি/জেআইএম