অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, তারা নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিদায় নিতে প্রস্তুত। তাদের অনেকে কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বাসাবোতে ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এবং খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ‘একবার ক্ষমতায় বসতে পারলে ছলেবলে কৌশলে চেয়ার ধরে রাখার দুঃখজনক প্রবণতা এদেশে রয়েছে। কিন্তু আমরা যেদিন দায়িত্ব নিয়েছি সেদিন থেকেই বিদায়ের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। এরই মধ্যে আমাদের অনেক উপদেষ্টা তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট স্যারেন্ডার করেছেন।’
‘আমরা নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে ঘরে ফেরার জন্য প্রস্তুত। আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুত রয়েছি- একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে যারা ক্ষমতায় আসবেন তাদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবো,’ যোগ করেন তিনি।
খালিদ হোসেনের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মাইলফলক। ওই দিন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট যদি জয়ী হয় তাহলে দেশে আর কোনোদিন স্বৈরতন্ত্রের জন্ম হবে না। ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হবে। দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়া যাবে। তাই সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার অনুরোধ জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি যখন ভোট দিতে যাবেন তখন আপনাকে দুটো ব্যালট দেওয়া হবে। একটি সাদা, আরেকটি গোলাপি। সাদা ব্যালটের মাধ্যমে আপনার বিবেচনায় যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেবেন। আর গোলাপি ব্যালটের মাধ্যমে আমাদের জনপ্রতিনিধিরা কীভাবে দেশ পরিচালনা করবেন সেই গাইডলাইন আপনি তৈরি করে দেবেন।’
তিনি স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গড়তে সবাইকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেন।
এসময় জুলাই সনদের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ৫৪ বছরে আমরা এই তিনটি লক্ষ্য অর্জন করতে পারিনি। বিগত ৫৪ বছরের শাসনামলে আমরা এমন এমন শাসনের কবলে পড়েছিলাম যেটা আমাদের কাঙ্ক্ষিত ছিল না। কখনো সংবিধানকে সুটকেসবন্দী করে, আবার কখনো সংবিধানের দোহাই দিয়ে আমাদের ওপর নিপীড়নমূলক শাসন চালানো হয়েছে।’
বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ভবেশ চাকমা এ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন। এতে আরও বক্তব্য দেন রমনার সেন্ট ম্যারিস ক্যাথেড্রাল চার্চের প্রধান পালক ফাদার আলবার্ট টমাস রোজারিও, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি পিউস কস্তা প্রমুখ।
আরএমএম/একিউএফ